chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

শুল্ক কমলেও, খুচরা পর্যায়ে ঊর্ধ্বগতি চালের দাম

নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্যাপ্ত সরবরাহের পর নতুন করে শুল্ক হার কমানোর সুবিধায় দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে আমদানি করা চাল। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে কোনো ভাবেইে এর সুফল মিলছে না। নির্দিষ্ট দরেই ঘুরপাক খাচ্ছে দেশিয় চালের খুচরা বাজার।ফলে চাল কিনতে নাভিশ্বাস সাধারণ ক্রেতাদের।

পাইকারীতে সহনীয় মাত্রার চাল খুচরায় এসে পকেট কাটছে সাধারণ মানুষের। সরকারি উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে বাজার তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে চাল আমদানির পথ সুগম করে সরকার। শুল্ক কমানোর ঘোষণায় গত ২০ আগস্ট এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থিতিশীল ছিল চালের বাজার। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বিষয়টিকে সাধুবাদ জানান। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে এই প্রবণতা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ভালো মানের চাল কিনতে ক্রেতাদের ৫৫ থেকে ৬০ টাকা গুনতে হয়। খুচরা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে বাজারে স্থিতিশীল হচ্ছে না বলে দাবি করছে চাল ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও চাল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে চালের দামের বিষয়টি উঠে আসে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, বস্তা প্রতি ৫০ টাকা কমে ভালো মানের দেশি মিনিকেট চাউল (আতপ) ২৩৫০ থেকে ২৪০০ টাকা, সিদ্ধ ১৭৫০ থেকে ১৮০০ টাকা, নাজিরশাইল চাল ২৫ কেজির বস্তা ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকা, জিরাশাইল ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেটে সিদ্ধ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা, পাইজাম সিদ্ধ ২৩৫০ থেকে ২৪০০ টাকা, মান ভেদে দিনাজপুরী কাটারিভোগ ২৫০০ থেকে ২৪০০ টাকা, এর চেয়ে নিম্মমানের ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকা, নবানি কাটারিভোগ ৩৩০০ টাকা, অঞ্জন কাটারিভোগ ৩৬০০ টাকা, দেশি বেতি ২১৫০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স খাজা স্টোরের  স্বত্তাধিকারী চট্টলার খবরকে বলেন, দেশি মিনিকেট সিদ্ধ চাউল পাইকারীতে কেজি প্রতি ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই চাল বিভিন্ন হাত ঘুরে পৌঁচ্ছে যাচ্ছে খুচরা দোকানে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ চাইতে পার। কিন্তু এই চাল ৫৪ থেকে ৬০ টাকায়ও বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ২৩০০ টাকায় কেনা চাল ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে ছেড়ে দিতে চাইছেন। কিন্তু ক্রেতা পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি অনেকটা খারাপ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক হার কমানোর সিদ্ধান্তের পর ভারতে চালের দাম বেড়েছে। আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এলসি করেননি। এমনকি গত সপ্তাহে আসা আমদানির অনেক চাল বাজারে পৌঁছায়নি।

দেশিয়ভাবে উৎপাদিত চাল পাইকারী বাজার স্থিতিশীল রাখলেও লাগামহীন খুচরা বাজার। উল্টো খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়তির জন্য মোকাম ও মিল মালিকদের ওপর দোষ চাপান। সূত্র জানায়, করোনা মহামারীর বিস্তারের মুখে দুই দফা লকডাউনে বাজারে ‘অনলাইন মোকাম’ নামে একটি এক মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি হয়েছে। এই পক্ষটি অনলাইনের ব্যবসার ফাঁদে পাইকারীভাবে চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে নেয়। অনেকক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা নিরুপায় হয়ে কম দামে চাল ছেড়ে দেন। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে এরা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছে।

জানতে চাইলে পাহাড়তলী চাল ব্যবসায়ী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, অনলাইন ব্যবসায়ীরা আগে আমাদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ কেজি চাল নিতো। এখন কমিয়ে দিয়েছে। ওরা খুচরা বাজারে ঝুঁকছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা এদের কাছে কম দামে চাল দিলেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চওড়া দামে বিক্রি করছে। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, বাজারে ৪০ টাকার মোটা চাউল তারা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। আমরা সরকারিভাবে বাজার তদারকির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে নগরের খুচরা পর্যায়ে সব ধরণের মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায়, মাঝারি মানের চালের দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, সরু চাল ৬২ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেশ কয়েক মাস ধরে সাধারণ ক্রেতাদের এই দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এদিকে বাজারে পর্যাপ্ত চাল মজুদের বিষয়টি মানতে নারাজ নগরের দুই নম্বর গেইটের মুদি দোকানি রহিম তরফদার।

তিনি চট্টলার খবরকে বলেন, ব্যবসায়ের গতিবিধি নির্ভর করছে আমদানি-রপ্তানির ওপর। দীর্ঘদিন পর শুল্ক কমানো হলেও, তেমন চাল আসেনি। এরপর মোকাম ও মিল মালিকরা চাল মজুদ রেখে নিজেদের সুবিধা মতো ব্যবসা করেছে। কৃষকদের কাছ থেকে স্বল্প দামে ধান কিনে লকডাউনের সময় বাজারে সিন্ডিকেটে গঠন করেছে। এর দায়ভার খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর দিলেতো হবে না। বেশ কয়েক মাস ধরে এই দামে চাল কেনাবেচা হচ্ছে। এলসির করা মাল খুচরা পর্যায়ে আসেনি। এর সঙ্গে কর্মচারী, গাড়ি ভাড়া সব মিলিয়ে চালের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে।

আরকে/জেএইচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...