chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

‘কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতা চিকিৎসায় চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্ব’

ডেস্ক নিউজ: কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতা চিকিৎসায় বিশ্ব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামে ৪শ শয্যার বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ইমপেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড’র চেয়ারম্যান ডা. রবিউল হোসেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব আগামীতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের, কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতা চিকিৎসায় এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। কারণ কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের কাছেও নতুন ও এর চিকিৎসায় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আজ বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

“লং কোভিডে পুনর্বাসন চিকিৎসা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ইমপেরিয়াল হাসপাতালে কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় আস্থার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং নন-কোভিড থেকে আলাদা ও কোভিড চিকিৎসায় নিবেদিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল সমন্বয়ে ৮৫ শয্যার কোভিড ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে।

সি.ই.আই.টি.সি এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট সমন্বয়ে একটি টিম ফিজিক্যাল মেডিসিন ও থেরাপী চিকিৎসায় ইমপেরিয়াল হাসপাতাল চট্টগ্রামে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “লং কোভিডে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা” যথার্থ ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কোভিড আক্রান্ত রোগীরা কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন এবং কিছু কিছু কোভিড পরবর্তী জটিলতায় মৃত্যুও হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহেবিলিটেশান বিভাগও কোভিড আক্রান্ত রোগীদের জন্য যুগপোযোগী সর্বাধুনিক ও বিশ্বমানের ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আবু তসলিম।

তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, কোভিড অতিমারি, বিশ্বব্যাপী মত্যুর মিছিলের পাশাপাশি মত্যু ঝুঁকি বাড়ানোসহ কোভিড পরবর্তী নানান শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করছে। কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠার পরও যদি করোনার এক বা একাধিক উপসর্গ থেকে যায় বা নুতন করে অন্য কোন উপসর্গ দেখা দেয় তাকে লং কোভিড বলে।

করোনাভাইরাস সংক্রমিতদের অনেকের জ্বর-কাশির মত উপসর্গগুলো সেরে গেলেও তারা পুরোপুরি সুস্থ হতে পারছেন না। দেখা গেছে, তাদের ফুসফুসের গুরুতর ক্ষতি হয়ে গেছে, অবসন্নতা ও বুক ধড়ফড়ানি দেখা দিচ্ছে, স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, অনেকে এতটাই দুর্বল হচ্ছেন হাঁটাচলা পর্যন্ত করতে পারছেন না -স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসতে তাদের মাসের পর মাস সময় লাগছে, কাউকে কাউকে ফিজিওথেরাপি নিতে হচ্ছে।

তাই লং কোভিড-১৯ থেকে মুক্তি পেতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের প্রদত্ত এক্সারসাইজ অনন্য ভূমিকা পালন করে।

হাসপাতালের একাডেমিক কোওর্ডিনেটর ডা এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশান বিভাগের ইনচার্জ ও সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট শারমিন আবিদা উক্ত বিভাগের বর্তমান কার্যক্রম ও কোভিড আক্রান্ত রোগীদের কোভিড পরবর্তী জটিলতা চিকিৎসায় ইমপেরিয়াল হাসপাতালের সুযোগ সুবিধা ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সরঞ্জামের এর উপর উপস্থাপনে হৃদরোগী, স্মায়ুরোগী, অর্থোপেডিক রোগী ও শিশু রোগীদের ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশান এর উন্নত ব্যবস্থা এখানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মজিবুল হক, কোভিট ইউনিটের চিকিৎসক ডা. ইফফাত শারমিন। সমাপ্তি ঘোষনা করেন হাসপাতালের সিএমও ও ল্যাব মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা তারেক আল নাসির।

আরএস/এমআই

Loading...