chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মসজিদ মন্দির নির্মাণে লাগবে অনুমতি

জাতীয় ডেস্ক: মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরিতে অবশ্যই সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এমনকি কবরস্থান ও শ্মশান বাঁধাই করতেও সরকারের অনুমতি লাগবে। এমন বিধান রেখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি খসড়া নীতিমালা সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যক্তি উদ্যোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান-শ্মশান তৈরিতেও সরকারের অনুমতি নিতে হবে এবং উদ্যোক্তার আয়ের উৎসও জানাতে হবে।

এ বিষয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলছেন, অনেক আগেই নীতিমালার প্রয়োজন ছিলো। তবে এখন নীতিমালা থেকে আইন করাটা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। জনগনের ভালোর জন্যই কাজটি হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংসদীয় কমিটির সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংসদীয় কমিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং কবরস্থান ও শ্মশান স্থাপনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি কমিটি গঠন করে। ১৯ আগস্ট কমিটি তাদের ৯ দফা প্রস্তাব দাখিল করে।

সংসদীয় কমিটির সদস্য মসিউর রহমান রাঁঙ্গা গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতামত নিতে বলা হয়েছে। যাতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসতে পারে, এমন কিছু না হয়। এ মতামত নেওয়ার পর সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করবে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে শৃঙ্খলা আনতে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করতে কমিটি নীতিমালার কথা বলেছে। এজন্য যদি আইন সংশোধনের দরকার হয়, সেটাও করতে বলা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

খসড়া নীতিমালার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান, শ্মশান নির্মাণ করতে সংশ্নিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের কাছে আবেদন করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাকা বা স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর তৈরি করা প্ল্যান ও ডিজাইন আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যান সেটা যৌক্তিক মনে করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। ওই আবেদন উপজেলা সমন্বয় সভায় অনুমোদন দেওয়া হবে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান বা শ্মশান নির্মাণে পৃথক কমিটি থাকবে। কমিটির সদস্য হবে- ইউনিয়নের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপদেষ্টা, নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতিসহ আটজন; পৌরসভার ক্ষেত্রে মেয়র সভাপতিসহ ১০ জন; সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর সভাপতিসহ সাতজন। প্রতিটি কমিটির কার্যপরিধিও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি বা খাস জমিতে এবং পরিত্যক্ত বা অর্পিত সম্পত্তিতে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা এবং কবরস্থান কিংবা শ্মশান নির্মাণ করা যাবে না। অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি নির্মাতাকে জবর-দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ত হতে পারে, এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এসব স্থাপনা রাস্তা থেকে যৌক্তিক দূরত্বে নির্মাণ করতে হবে।

কোনো জমি ওয়াকফ, দান, কেনা বা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে বরাদ্দ পেলে সেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান বা শ্মশান নির্মাণ করা যাবে। তবে আদালতে মামলা থাকলে নির্মাণ করা যাবে না।

সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব জমিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান নির্মাণ করতে চাইলে সংশ্নিষ্ট কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার বা যৌক্তিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ঈদগাহ উন্মুক্ত স্থানে থাকবে এবং বছরের অন্য সময় ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এলাকার জনসংখ্যা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। প্রতিযোগিতামূলকভাবে এসব করা যাবে না। ব্যক্তিগতভাবে এসব করতে গেলে ব্যক্তিকে আয়ের উৎস জানাতে হবে। উদ্যোক্তা আয়কর দেন কিনা, তাও বিবেচনায় আনতে হবে। মসজিদ নির্মাণে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৬’ যথাযথ অনুসরণ করতে হবে।

এন-কে

এই বিভাগের আরও খবর