chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ষোলশহর রেল স্টেশনে গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির সমাবেশ

পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুনর্বাসন ছাড়া নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশন সংলগ্ন বস্তি উচ্ছেদ না করার দাবিতে গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটি সমাবেশ করেন। ষোলশহর রেল স্টেশন সংলগ্ন সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের বস্তি পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান না করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটি।

গতকাল রোববার ,বিকাল ৪ টায় ষোলশহর দুই নম্বর গেইটে রেল স্টেশনে গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনু্ষ্ঠিত সমাবেশে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডাঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, গরীব শ্রমজীবি মানুষদের এ করোনাকালীন সময়ে বস্তি থেকে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত অমানবিক এবং ন্যাক্কারজনক।

তিনি আরো বলেন, এই শ্রমজীবি মানুষেরা ট্যাক্স দেয়,এরাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। নিতান্তই উচ্ছেদ করার প্রয়োজন হলে, আগে এদের রেলের পরিত্যক্ত জমিতে বা সরকারী খাস জমিতে পুনর্বাসন করুন।

সরকার গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসন করার জন্য ২০২০ সালে একটি নীতিমালা প্রনয়ণ করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের যে নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে ডাঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, সেই নীতিমালা অনুযায়ী গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এ অসহায় গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিক। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতি অনুসারে পুনর্বাসনের দাবিতে আপনাদের জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ।

গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনজুম আরা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজা বেগম, সদস্য কুলসুম বেগম, সদস্য সাথী আক্তার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,ষোলশহর স্টেশনের রেল লাইন থেকে তালতলা পর্যন্ত এলাকায় গৃহকর্মী, রিক্সা ও ট্যাক্সি চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক,  দোকান কর্মচারী, দিনমজুরসহ শ্রমজীবী প্রায় ১২-১৫ হাজার মানুষ বসবাস করে। যার মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটার আছে ৫ হাজার।

গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনজুম আরা বেগম বলেন, উচ্ছেদের খবর পাওয়ার পর আমরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। কারণ এ এলাকায় বসবাসরত নারীদের বেশিরভাগই আমরা গৃহকর্মী এবং এ এলাকাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি,বাজার,দোকানে আমরা কাজ করি। এ অবস্থায় এখান থেকে চলে গিয়ে অন্য কোন নতুন স্থানে যেতে হলে,আমরা কাজ হারাবো এবং এ করোনাকালীন সময়ে অন্যত্র নতুন করে কাজ পাওয়া কঠিন।

করোনাকালীন এ অর্থনৈতিক দুর্দশার ও জীবন-জীবিকা রক্ষা ও কাজের অনিশ্চয়তা চরম বিপদগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজা বেগম আরো বলেন, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ হারিয়ে দীর্ঘদিন আমরা চরম আর্থিক সংকটে দিন অতিবাহিত করেছি। কাজ না থাকায় ধার-দেনা করে আমরা প্রত্যেকেই আমাদের সামান্য সঞ্চয় হারিয়েছি এবং বড় পরিমাণে ঋণগ্রস্ত হয়েছি। এখন এখান থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হলে,অন্য এলাকায় ঘর ভাড়া করার জন্য অগ্রিম এবং আনুষঙ্গিক খরচ বহন করার সামর্থ্য আমাদের কারও নেই। যার ফলে আমাদের সন্তান-সন্ততিসহ পথে বসা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় থাকবেনা।

এছাড়াও নেতৃবৃন্দরা করোনাকালীন মহামারীতে এ এলাকায় বসবাসরত শ্রমজীবি মানুষকে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা এবং সরকারের পুনর্বাসন নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী রেলের পরিত্যক্ত ভূমি বা সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের দাবি জানান। পুনর্বাসনের দাবিতে আজ সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক,বিভাগীয় রেল পরিচালক,বিভাগীয় ও কআঞ্চলিক ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার নিকট আসমা আক্তারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এমএআর/জেএইচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...