chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বাড়ল চিনির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: চালের দাম কমে আসার খবরে ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও হঠাৎ করে খুচরা বাজারে বেড়েছে চিনির দাম। পাইকারি বাজারে চিনির দাম বস্তা প্রতি ৫০ টাকা কমলেও, খুচরায় প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দুষছেন। এটিকে ‘কৃত্রিম সংকট’ উল্লেখ করে বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২২ আগস্ট) চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেইট কর্ণফুলী, কাজীর দেউড়ি ও রিয়াজউদ্দিন কাঁচাবাজার ঘুরে চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ভোগ্যপণ্য বাজার খাতুনগঞ্জে চিনির দাম স্থিতিশীল আছে। তবে চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই নম্বর গেইট কর্ণফুলী কাঁচাবাজারে সাদা জাতের খোলা চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। তিনদিন আগেও ওই বাজারে খোলা চিনি ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লাল জাতের প্রতি কেজি চিনি ৭৮ থেকে ৮২ টাকা ধরে কেনাবেচা হচ্ছে। প্যাকেটজাত চিনি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা।

মমিন স্টোরের মুদি দোকানি আফতাবুর রহমান চট্টলার খবরকে বলেন, প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে। কয়েক দোকানে ঘুরলে দেখবেন পর্যাপ্ত চিনি নেই। আগের চিনি থাকায় সেগুলো বিক্রি করছি। নতুন মাল আসলে দাম বেড়ে ৮০ টাকা হতে পারে। সরবরাহ বৃদ্ধি করা গেলে দাম কমে আসতে পারে।

এই দিন খাতুনগঞ্জে বস্তা প্রতি সাদা চিনি ৫০ টাকা কমে ২৬০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭১ টাকা। গত সপ্তাহে এই জাতের চিনি কেজি প্রতি ২৬৫০ টাকা কেনাবেচা হয়েছিল।

বেসরকারিভাবে দেশের একমাত্র চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। এর পাশাপাশি সিটি গ্রপ বাজারে চিনির যোগান দেয়। এ দুটি প্রতিষ্ঠান কৃষক পর্যায় থেকে শুরু করে মিল মালিক হয়ে বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনি সরবরাহ করে। কোনো কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির সরবরাহ বন্ধ হলেই সুযোগের আশায় বসে থাকেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জে এস আলমের গ্রুপের মেসার্স মীর ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের এক কর্মকর্তা চট্টলার খবরকে বলেন, কয়েকদিন আগে এস আলম গ্রুপ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে চিনির সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। সরবরাহ বন্ধ থাকার খবরে পাইকারি ব্যবসায়ীরা চিনির দাম বস্তা প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। অথচ মিল মালিকরা কেজি প্রতি চিনির দাম দুই থেকে তিন টাকা কমিয়েছে।

মধ্যস্ততাভোগীদের কয়েক হাত ঘুরে খুচরা পর্যায়ে চিনি পৌঁছায়। এক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না। পর্যাপ্ত চিনি থাকার পরও, খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি থাকতে পারে।
তবে এ যুক্তি মানতে নারাজ কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি তসলিম মিয়া।

তিনি চট্টলার খবরকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববাজারে গম চাষ ব্যাহত হওয়ায় চিনির বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্থায়ীভাবে পরিশোধিত চিনি বাজারে ছিল। সরকারিভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভারত, থাইল্যাল্ড থেকে চিনির আমদানি বন্ধ ছিল। যার কারণে দাম বাড়তি দিকে।

এদিকে একই সময়ে খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। দুদিনের ব্যবধানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরায় এক লিটার সয়াবিন তেল ১৪৫ টাকা, দুই লিটার তেল ২৯৫ টাকা ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল ১০ টাকা বেড়ে ৬৯০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারিতে সয়াবিন তেল ৫ লিটার তেল ৬৪০ ও প্রতি লিটার তেল ১৩০ টাকা বৃদ্ধি হচ্ছে। বোতলজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে রুপচাদা তেল।

অপরদিকে খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাম ওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। পাইকারিতে বোতলজাত সয়াবিন তেল মণ প্রতি ১০ টাকা কমে ২৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই তেল ২৬৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন অন্যান্য মুদি সামগ্রীর ন্যায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়তির দিকে। গত সপ্তাহেও ভোগ্যপণ্য সয়াবিন তেল ক্রেতাদের নাগালে ছিল।

আরকে/এমআই

Loading...