chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বেড়েছে মুরগীর দাম, বাজারে মিলছে শীতের আগাম সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছে ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৩ আগষ্ট) কাজির দেউড়ি ও বক্সিরহাট কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগী কিনতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহে সরবরাহ বেশি ছিলো কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারণে বাজারে ক্রেতা ছিল কম। ফলে ব্রয়লার মুরগী ও লেয়ার মুরগীর দাম ছিল তুলনামূলক কম।

গত সপ্তাহে ফার্মের ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এ সপ্তাহে বেড়ে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। তাছাড়া বাজারে লেয়ার মুরগি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা।

প্রতি কেজি সোনালি (কক) মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। যা গত শুক্রবার ছিল ২১৫ থেকে ২২০ টাকা। দেশি মুরগী বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

তাছাড়া নগরীর বিভিন্ন অলি গলিতে থাকা মুরগীর দোকানগুলোতে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মুরগীর দাম।

কাজির দেউড়ি বাজারের মুরগী বিক্রেতা কাদের মিয়া জানালেন, লকডাউন শিথিল হওয়ায় বাজারে ক্রেতা বাড়ছে। এর ফলে বাজারে মুরগির চাহিদা একটু বেড়েছে, তাই দামও একটু বাড়তি।

আগে দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। হাঁসের ডিমের দাম বেড়ে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। সোনালী (কক) মুরগির ডিমের ডজনও বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন বাজারে এ সপ্তাহে দেখা মিলছে শীতের আগাম সবজি শিম ও ফুলকপি। তবে দাম একটু চড়া। শিম কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে ১৬০-২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। আর ছোট একটা ফুলকপি কিনতে লাগছে ৩০-৫০ টাকা।

আজ (শুক্রবার) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে নতুন আসায় এখন শিম ও ফুলকপির দাম একটু বাড়তি। এই বাড়তি দাম আরও বেশকিছু দিন থাকবে। তবে দাম বেশি হলেও বাজারে শিম ও ফুলকপির বেশ চাহিদা রয়েছে।

বক্সিরহাট বাজারের এক ব্যবসায়ী জানালেন, বাজারে যখন নতুন কোনো সবজি আসে তার দাম একটু বাড়তি থাকে। সে হিসেবে এখন শিম ও ফুলকপি দাম খুব বেশি না। সহসা এ দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বরং সামনে আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাজারে শীতের সবজি ভরপুর আসতে আরও অনেক সময় বাকি আছে। এখন যে শিম ও ফুলকপি আসছে তা আগাম সবজি। এর চাষ অল্প পরিমাণে হয়। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকে। আর নতুন জিনিসের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা থাকে। তাই দাম বেশি হলেও এখন শিম ও ফুলকপি বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

শীতের আগাম সবজি শিম ও ফুলকপি বাদ দিলে অন্যান্য প্রায় সব সবজিতে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও টমেটো। মানভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা। আর পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

বাজারে প্রতিকেজি (গোল) বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান টমেটো ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা। চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, লতি ৮০ টাকা ও কাকরোল ৮০ থেকেন ৬০ টাকা। এসব বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা।

বাজারে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম : প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ৪০ টাকা।  প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা দরে প্রতি কেজি।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, মৃগেল মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। ঈদের পর থেকেই মাছ এই দামে বিক্রি হচ্ছে।

আরএস/এনএনআর

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...