chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে তিন ঘণ্টায় ৪৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত, পাহাড় ধসের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতে অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়া সড়কে যান চলাচল কমে যাওয়ায় কোমর পানি ভেঙে অফিস ও বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছেছেন নগরবাসী। ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামে রোববার একদিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৬২ মিলিমিটার। রোববার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৭ মিলিমিটার। এতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম টিটু বলেন, রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সিডিএ আবাসিক এলাকার কিছু কিছু জায়গায় কোমর পরিমাণ পানি উঠেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

একই অবস্থা নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ এক্সসেস রোড, রামপুর, সরাইপাড়া, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেইট, প্রবর্তক মোড়, চৌমহনী, অক্সিজেন মোড়, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চাক্তাই, বাকলিয়া, গোসাইলডাঙাসহ অধিকাংশ এলাকার। এসব এলাকায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানি জমায় বেড়েছে নাগরিক ভোগান্তি। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার নগরীর খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকার দোকান-পাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

রোববার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে অফিস আদালতে যেতে পারেননি। যারা গিয়েছেন তাদেরকেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যান চলাচল কমে যাওয়ায় অনেকেই পানির মধ্যেই হেঁটে, রিকশা-ভ্যানে অফিসে গিয়েছেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, রোববার ১২ টা পর্যন্ত পূর্ববতী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রোববার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চট্টগ্রামে থেমে থেমে হালকা থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবার অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল দোকানপাট ও নিচতলার বাসা-বাড়িতে জলাবদ্ধতার কারণে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে। চট্টগ্রামে রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে থাকলে জলাবদ্ধতার আরো বাড়বে। এছাড়া পাহাড় ও ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের ঝূঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে নিয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার উমর ফারুক রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নগরীর ৫ টি এলাকায় ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নগরীতে ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এসএএস/এএমএস/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...