chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চসিক নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন, জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আচরণ বিধি প্রতিপালনে ও আইন শৃংখলা রক্ষার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। এসময় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫ ব্যক্তিকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার ওমর ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কাট্টলী সার্কেলের কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিকাল সাড়ে ৪ টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত নগরীর ১২ নং (সরাইপাড়া), ২৩ নং (পাঠানটুলি) ও ২৪ নং ওয়ার্ড (উত্তর আগ্রাবাদ) ও সংরক্ষিত ৯ নং মহিলা কাউন্সিলর ওয়ার্ডে নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালনে ও আইন শৃংখলা রক্ষার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় অভিযান পরিচালনাকালে ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নুরুল আমিন সিটি কর্পোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ভঙ্গ করে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকায় পোস্টারিং করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, একই প্রার্থীর বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

এর প্রেক্ষিতে গতকাল বিকালে প্রার্থীকে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দেয়া হলেও তিনি আজ সন্ধ্যার মধ্যেও নির্বাচনী আচরণ বিধি পরিপন্থী পোস্টার অপসারণ করেননি। ডবলমুরিং থানাধীন জোড় দেবার পাড়স্থ ঝর্ণাপাড়া এলাকায় উক্ত প্রার্থীর কর্মীরা নির্বাচন ক্যাম্পে রাজনৈতিক পরিচয় সম্বলিত পোস্টার ব্যবহার করছিলেন। পাশাপাশি নির্বাচনী ক্যাম্পে প্রার্থীর কর্মীরা রাত ৮ টার পরেও প্রচারণা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। উপরোক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে আজ রাত ৯ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন কারী কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী মো. রাসেলকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ শিকদার এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ২৭, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রণয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় অনুমোদন ব্যতীত মাইক্রোফোন ব্যবহার, যানবাহনে পোস্টার লাগানো ও নির্দিষ্ট আকারের অতিরিক্ত সাইজের পোস্টার লাগানোয় তিনজনকে বিভিন্ন ধারায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং এ ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অভিযান চলমান আছে।

অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর এর নেতৃত্বে নগরীর ১৪, ১৫ ও ২১ নং সাধারণ ওয়ার্ডে ( সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড-০৫) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অফিসে নির্বাচনী প্রার্থীগণের কর্মী সমার্থকদের নির্বাচন আচারণ বিধি মেনে প্রচার প্রচারণা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এক কাউন্সিলর প্রার্থীর দলীয় সমর্থনযুক্ত ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক নগরীর কোতোয়ালি এলাকায় ৩৩,৩৪,৩৫ নং ওয়ার্ডে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এতে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে শিশুদের নিয়ে মিছিল করায় এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং পাশাপাশি সতর্ক করে দেয়া হয় যাতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয় এধরনের কার্যক্রম না চালায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী আজ সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯ এবং ৩৬নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী আচরণবিধির মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণের বিষয়ে প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লুর রহমান আজ বেলা ৩ টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত ১১,২৫ ও ২৬ নং সাধারণ ওয়ার্ডে ( সংরক্ষিত ১০ নং ওয়ার্ড) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে দেখা যায় অল্প কিছু কাউন্সিলরদের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটে নিজেদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যারা দলীয় পরিচয় দিয়ে ব্যানার,পোস্টার,লিফলেট বিতরণ বা টাঙ্গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের দ্রুত ঐ সকল ব্যানার,পোস্টার ও লিফলেট সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তীতে আচরণ বিধি লংঘনের দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে সতর্ক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন আজ বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৯, ১০ এবং ১৩ নং ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এসএএস/নচ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...