chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কৃত্রিম ফুলের চাহিদায় ফুল চাষীর ঘুম হারাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফুল চাষ শুরু হয় দু’যুগ আগে। প্রথমে বাণিজ্যিক ফুল চাষে কৃষক তেমন আগ্রহী না হলেও দিনে দিনে কৃষক ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে। তাদের চাষ করা ফুল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হয়েছে বিদেশেও।

ফুল চাষ হাসি ফুটায় হাজার হাজার কৃষকের মুখে। কিন্তু বর্তমানে কৃষকের হাসি মুখ মলিন হয়ে উঠেছে। কারণ এখন নানা অনুষ্ঠানে কাঁচা ফুলের চাহিদা মেটাতে মানুষ কৃত্রিম ফুলের দিকে ঝুঁকছে।

কৃত্রিম ফুলের চাহিদায় ফুল চাষীর ঘুম হারাম
নগরীর চেরাগী মোড় এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই জমে উঠে কাঁচা ফুলের বাজার। আলোকচিত্রী এম ফয়সাল এলাহী

কৃষকরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম ফুল বাজারে আসায় কাঁচা ফুলের চাহিদা কমে গেছে। এজন্য কাঁচা ফুলের দাম আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এখন ফুল চাষ করে যে দাম পাওয়া যায় তাতে খরচই উঠে না। আবার করোনার কারণে পথে বসেছে ফুল চাষীরা।

সরেজমিন খাগরিয়ার চরে দেখা যায়, সবজি ক্ষেতের পাশাপাশি বাণ্যিজিকভাবে চাষ হচ্ছে গাদাঁ, গ্ল্যার্ডিওলাস, গোলাপ, স্টার, জিপসি, রঙ্গিন স্টিক, সাদা স্টিক ও বেলী ফুল। ফুলের মৌ মৌ  গন্ধে ভরে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রাকৃতিক অপরূপ শোভা পাচ্ছে বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে।

কৃত্রিম ফুলের চাহিদায় ফুল চাষীর ঘুম হারাম
নগরীর চেরাগী মোড় এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই জমে উঠে কাঁচা ফুলের বাজার। আলোকচিত্রী এম ফয়সাল এলাহী

সাতকানিয়ায় চলতি বছরে ৮ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। এই পেশার সাথে জড়িত প্রায় শতাধিক চাষী।

চরখাগরিয়া রসুলপুর এলাকার ফুল চাষী আব্দুর রশিদ বাহাদুর বলেন,গেলো ৩ বছর আগে ফুলের দাম বেশি ছিল। ফুল চাষ করে কৃষক লাভবান হয় কিন্তু এখন প্লাষ্টিকের ফুল বাজারে আসার কারণে ফুলের ভাল দাম পাচ্ছে না কৃষক। গেলো দু’ বছর আগে একটি রঙ্গিন ষ্টিক ফুল (গ্ল্যার্ডিওলাস) ১৫-১৮টাকায় বিক্রি করতে পারলেও এখন তা  ৪-৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

আব্দুর রহিম নামে আরেক ফুল চাষী বলেন, বর্তমানে শ্রমের দাম বেড়ে গেছে। আমরা ফুল চাষ করে লাভ করতে পারছি না।

খাগরিয়া ইউনিয়নের ফুলচাষী হাফেজ মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন বলেন, এক সময় শখের বশে ফুল চাষ করলেও এখন আমরা বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ করছি। অপর চাষী মোহাম্মদ রফিক বলেন, এখন ফুলের বাজার ভাল নয় কোন রকমে চলছি আমরা। ফুলের বাজারে চাহিদা বাড়লে বেশি লাভ হবে।

কৃত্রিম ফুলের চাহিদায় ফুল চাষীর ঘুম হারাম
নগরীর চেরাগী মোড় এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই জমে উঠে কাঁচা ফুলের বাজার। আলোকচিত্রী এম ফয়সাল এলাহী

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় চট্টলার খবরকে বলেন, সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। উপজেলার ৮ হেক্টর জমিতে প্রায় শতাধিক চাষী এই পেশার সঙ্গে জড়িত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাষীরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে ফুল চাষে তারা কোন সাহায্য সহযোগীতা পাচ্ছেন না। কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদের কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে না। চাষীরা মনে করেন, ফুল চাষের জন্য চরখাগরিয়ার চর সবচে ভালো জমি। ফুল চাষে যদি সরকারিভাবে বাড়তি সাহায্য সহযোগীতা পাওয়া যায় তাহলে চরখাগরিয়ায় ফুল চাষের সুদিন ফিরে আসবে।

এসএএস/নচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...