নগরীতে নষ্ট সিসি ক্যামেরা, ধরাছোঁয়ার বাইরে অপরাধী

মেহেদী হাসান কামরুল: অপরাধী শনাক্তসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নজরদারিতে ভূমিকা রাখে সিসি ক্যামেরা। কোন অপরাধ সংঘটিত হলে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে বলা যায় সিসি ক্যামেরা অপরাধী শনাক্তে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সিসি ক্যামেরা যখন অকেজো হয় তখন অপরাধী শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলোতে ঘুরে অধিকাংশ ক্যামেরা অচল পাওয়া গেছে। যেগুলো সচল আছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোও নষ্ট হওয়ার পথে।

নগরীতে নষ্ট সিসি ক্যামেরা, ধরাছোঁয়ার বাইরে অপরাধী

সম্প্রতি নগরীতে ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড, কিশোরগ্যাং সহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়েছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও তাৎক্ষনিক অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এর মূলে রয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ না থাকা। ফলে অনেকসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে অভিযুক্ত অনেক আসামি। বিষয়টি নগরবাসীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে নগরীর ৪ টি প্রবেশ-মুখসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয়। এর আগে সিটি কর্পোরেশনের ক্যামেরা ছিলো। ওই সময় ১০৪ টি ক্যামেরা লাগায় সিএমপি। বর্তমানে প্রায় ৪৫ টির অধিক ক্যামেরা অচল।

যেসব স্থানে সিসি ক্যামেরার পাওয়া গেছেঃ অক্সিজেন, সিটি গেইট, কর্ণফুলী, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, জিইসি মোড়, মুরাদপুর মোড়, বহদ্দারহাট, দেওয়ানহাট, সিআরবি, ইপিজেড, আন্দরকিল্লা, টেরিবাজার, কদমতলী, কোর্ট বিল্ডিং, কোতোয়ালী, দুই নাম্বার গেইট, বন্দর, কাজীর দেউড়ি, শহীদ মিনার, নিউ মার্কেটসহ আশেপাশের এলাকায়। তবে এসব এলাকার অধিকাংশ ক্যামেরাই নষ্ট।

নগরীতে নষ্ট সিসি ক্যামেরা, ধরাছোঁয়ার বাইরে অপরাধী

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দুই নাম্বার গেইটের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়। পরে ওই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আশেপাশের কোন সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি পুলিশ। আশেপাশের ক্যামেরা অচল ও পুলিশ বক্সের ভেতর কোন ক্যামেরা না থাকায় আসামি ধরতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশের। এসময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান পুলিশ বক্সসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা প্রতিস্থাপন করার কথা জানান।

কিন্ত তার কথা আজো কথা পর্যন্ত রয়েছে। বাস্তবায়ন হয়নি। তিনিও চট্টগ্রাম থেকে বদলী হয়েছেন। চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন গাড়ি চালক আইয়ুব আলী। হতভাগ্য এই চালক ঢাকা থেকে বেড়াতে এসে আগ্রাবাদের বারিক বিল্ডিং এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ৫ আসামিকে আটক করে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক-উল-হক জানান, একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাতে শেরশাহতে ছুরিকাঘাতে খুন হন হকার্স লীগ নেতা রিপন (৩০)। এই ঘটনায় রিপনের বড় ভাই বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৮ আসামিকে আটক করে।

কাছাকাছি সময়ে বৃহৎ এ ৩ টি ঘটনার পর সিসিটিভির প্রয়োজনীয়তা কত খানি তা ঠিকই অনুধাবন করতে পেরেছে সিএমপি। তারপরও বিন্দু মাত্র পরিবর্তন আসে নি সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে।

সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোস্তাক আহমেদ খান জানান, ক্যামেরা গুলো চারবছর আগে লাগানো। বর্তমানে ৭০ টির মত ক্যামেরা সচল আছে। ৪০ থেকে ৪৫ টির মত ক্যামেরা অচল রয়েছে। আমরা এগুলো নতুন করে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে অচল ক্যামেরাগুলো সচল করা হবে।

এএমএস/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...