বাকলিয়ায় ছেলের সামনে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা, ৭ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় ছেলের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আটকের পর উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলেনে হত্যাকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন উপ-পুলিশ কমিশনার এস.এম মেহেদেী হাসান।

হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় আটক ৭ জন হলেন- আকতার হোসেন ওরফে কসাই আকতার (৪১), মো. সাইফুদ্দিন (৪০), রায়হান উদ্দিন ওরফে রানা (২৫), আশরাফুল ইসলাম (২৮), মো. সবুজ (৩৫), মো. আবু তাহের ওরফে কালু (২০), ও হাসিনা আকতার।

উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান চট্টলার খবরকে জানান, গতকাল রাতে ফিশারী ঘাটের ভেড়া মার্কেট এলাকায় আবু তৈয়বকে তার ছেলে শাহজাহানের সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মূলত প্রভাব বিস্তার ও চাঁদা দাবিতে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যকান্ড ঘটানো হয়। এই ঘটনার মাস্টার মাইন্ড আকতার হোসেন ওরফে কসাই আকতার। তার নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। হত্যাকান্ডের স্বীকার তৈয়ব ফিশারীঘাটে শ্রমিক সরবরাহের পাশাপাশি একটি খাবারের দোকান পরিচালনা করতেন। ফিশারীঘাটে দৈনিক মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়। আটকৃকতরা ওই লেনদেনের টাকার ভাগ চাইতেন। কিন্তু তৈয়ব তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিত না। তাছাড়া শুক্রবার সকালে তার ভাড়া বাসার কলোনীর ইনচার্জ হাসিনা আকতারের সাথে ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। এরই জেরে হত্যাকান্ডে হাসিনাও অংশ নেয়। সংঘবদ্ধভাবে তৈয়বকে হত্যার পর আসামিরা গণপিটুনি বলে চালিয় দেয়ার পাঁয়তারা করে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে নিশ্চিত হয়। হত্যাকান্ডে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে ঘাতকরা।

নিহত আবু তৈয়বের ছেলে শাহজাহানের সাথে কথা হয় চট্টলার খবরের। এসময় কান্নায় ভেঙে পরে শাহজাহান। কান্নাজড়িত কন্ঠে সে বলে পৃথিবীর সবচেয়ে নৃশংস দৃশ্য আমি গতকাল রাতে দেখেছি। ফিশারীঘাটে ব্যবসার চাঁদার টাকার ভাগ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কসাই আকতার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে কসাই আকতার আমার বাবাকে মীমাংসার কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নেয়। অনিরাপদ মনে করে বাবার সাথে আমিও যাই। এসময় আগে খেকে ওঁৎপেতে থাকা কসাই আকতার আরও ৬/৭ জনকে নিয়ে ওয়ালটন শো-রুমের সামনে আমার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমি পিতৃহত্যার বিচার চাই।

এমএইচকে/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...