চট্টগ্রামে ব্যস্ত ঢাক-ঢোল কারিগররা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সপ্তাহ পার হলেই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ধূপের গন্ধে মেতে উঠবেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

করোনা ভাইরাসের কারণে সব কিছু থমকে থাকলেও দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম নগরীর বাদ্যযন্ত্র কারিগররা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর পাথরঘাটায় প্রতিটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির দোকানে ঢাক-ঢোল তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। দম ফেলার ফুরসত নেই কারো। কাঠের খুটখাট শব্দে মুখর দোকানগুলো। ঢাক-ঢোলের জন্য খোল তৈরি, রং করা, চামড়া লাগানো এবং মেরামতে ব্যস্ত বেশিরভাগ কারিগর।

কারিগররা জানান, পূজাতে ঢাক-ঢোলের বাজনা অপরিহার্য। কারণ হিন্দুশাস্ত্রে এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। তাই ঢাক-ঢোল ছাড়া পূজা-অর্চনার কথা ভাবাই যায় না। তবে বর্তমান সময়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির আধিক্যে ঢাক-ঢোলের বাজনা কমে যাচ্ছে। কাঠ, চামড়াসহ ঢাক-ঢোল তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন খুব একটা লাভ হয় না।

পাথরঘাটার সতিশবাবু লেইনের নিউ সুর বাণীর মালিক রাধেশ্যাম মনি দাশ চট্টলার খরবকে বলেন, আগের দিনের মতো ঢাক-ঢোলের তেমন চাহিদা নেই। যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢাক-ঢোল, খোল, তবলা। পূজা উপলক্ষে ঢাক-ঢোলের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে করোনার কারণে ভালো দাম পাচ্ছি না কাজের।

তিনি বলেন, যে কাজ গত বছর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় অর্ডার নিতাম। তা এবার ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি পাচ্ছি না।

আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের কারণে উৎসব-অনুষ্ঠানে এখন আর ঢোলের তেমন কদর না থাকলেও পূজা-পার্বনে এখনও ঢাক-ঢোলের কদর রয়েছে। পূজার আরতিতে ঢোলের এখন কোনো বিকল্প নেই। তাই বছরের এ সময়টাতে ব্যস্ত সময় পার করেন ঢুলি থেকে শুরু করে ঢোল-খোলের কারিগররা। পূজা ছাড়াও বিভিন্ন লোকসঙ্গীতের আসরে ঢাক-ঢোল অন্যতম বাদ্যযন্ত্র।

এসএএস/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...