করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আরো দায়িত্বশীল হতে হবে

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

নিলা চাকমা: সারা বিশ্বে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) পালন করা হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য : অধিক বিনিয়োগ—অবাধ সুযোগ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারা দেশে স্থাপন করা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব সেবাকেন্দ্র থেকে দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে ৩০ রকমের ওষুধ পাচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২০ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ  মানুষকে সবদিক থেকে চাপে ফেলে দিয়েছে। এক জরিপে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ শিশু, কিশোর, তরুণ এবং চাকরীহারা যুবকদের বেড়েছে মানসিক চাপ ও শঙ্কা। যার ফলে মানসিক সমস্যা বাড়ছে দ্বিগুণ হারে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজ থেকে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ক্যাম্পেইনটির নাম রাখা হয়েছে ‘মুভ ফর মেন্টাল হেলথ: লেট’স ইনভেস্ট’।

করোনাকালে তারাই ভালো রয়েছেন যারা মানসিক চাপ মেনে নিতে পেরেছেন। অনেকে ভয় পেলেও ভয়কে জয় করেছেন। কেউ কেউ ভয়ে কাবু হয়েছেন। অনেকেই কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পেরেছেন। আবার অনেকের সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে। অনেকের চাকরি বা ব্যবসায় সমস্যা হয়েছে।

করোনাকালে বাড়িতে থাকলেও প্রবীণদের সামাজিক যোগাযোগটা বজায় রেখে চলতে হবে। আর তা করতে হবে টেলিফোনে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। আর টেলিভিশনে খবরের ওপর নিয়মিত নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে সরকারি ঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে। যাতে বাইরের জগতের সঙ্গে তারা আপডেটেড থাকতে পারেন। তবে টেলিভিশনে মৃত্যু বা দুঃখ, শোকের খবর থেকে নিজেদের যদি তারা দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। তার বদলে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, মন ভালো করা টিভি সিরিয়াল বা পুরোনো দিনের সিনেমা দেখতে পারেন। শুনতে পারেন পুরোনো দিনের আনন্দের গান। বাড়িতে নিয়মিত ব্যায়ামও করতে পারেন। এছাড়া, নাতি-ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ইনডোর গেম খেলে সময় কাটান। কোনোভাবেই একা একা তাদের থাকতে দেওয়া যাবে না।

চখ

 

Loading...