হাঙরের জন্য হুমকি হতে পারে করোনার ভ্যাকসিন

ডেস্ক নিউজ: পুরো বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটির ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিশ্ববাসী। এরমধ্যে করোনার ভ্যাকসিন হাঙর প্রজাতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রাণী সংরক্ষণবিদরা।

প্রাণী সংরক্ষণবিদদের আশঙ্কা, করোনার ভ্যাকসিনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেলের জন্য প্রায় ৫ লাখ হাঙর হত্যার শিকার হতে পারে।

কোভিড-১৯ রোগের কিছু পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত একটি উপাদান হলো স্কোয়ালেন, এই প্রাকৃতিক তেল হাঙরের লিভার থেকে তৈরি করা হয়। এটি এমন একটি উপাদান যা শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন বর্তমানে ফ্লুর ভ্যাকসিনগুলোতে স্কোয়ালেন ব্যবহার করে আসছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী মে মাসের মধ্যে এই উপাদান ব্যবহার করে তারা সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনের ১ বিলিয়ন ডোজ তৈরি করবে।

১ টন স্কোয়ালেন সংগ্রহের জন্য প্রায় ৩ হাজার হাঙরের প্রয়োজন হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘শার্ক অ্যালাইস’ নামক সংস্থার মতে, বিশ্ব জনগণ যদি এই লিভার অয়েলযুক্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের একটি ডোজ পায়, তাহলে স্কোয়ালেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে প্রায় আড়াই লাখ হাঙর হত্যার মুখে পড়বে। আর যদি দুটি ডোজের প্রয়োজন হয়, তাহলে হাঙর হত্যার সংখ্যাটা দাড়াবে প্রায় ৫ লাখে।

হাঙর প্রজাতির জন্য এই হুমকি এড়াতে বিজ্ঞানীরা স্কোয়ালেনের বিকল্প উপাদান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। আখ থেকে তৈরি করা এক ধরনের কৃত্রিম উপাদানকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

শার্ক অ্যালাইসের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক স্টেফানি ব্রেন্ডল বলেন, ‘বন্য প্রাণী থেকে কোনো উপাদান সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদী কিছু হতে পারে না, বিশেষ করে এমন প্রজাতির প্রাণী যাদের প্রজনন ব্যাপক সংখ্যক নয়।’

হাঙর গবেষক ব্রেন্ডলের মতে, করোনা মহামারি কত বড় হবে এবং কতদিন থাকবে তার অনেককিছুই এখনো অজানা রয়েছে। ভ্যাকসিনের কতগুলো ডোজ প্রয়োজন হবে সেটাও অনিশ্চিত। ভ্যাকসিনের জন্য হাঙরের ব্যবহার চালিয়ে গেলে বছরে পর বছর ধরে হাঙর হত্যার সংখ্যাটা হয়ে উঠবে অস্বাভাবিক বেশি।

এমআই/

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...