এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহারে ছাত্রলীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের অত্যাচার, নির্যাতন ও গণধর্ষণ একাত্তরের হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন সন্ত্রাসী কার্যক্রম, খুন, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজিতে মেতে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীরা। ডা. শাহাদাত বলেন, দোষ করার আগে তাদেরকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করা হলেও দোষ করার পর তাদেরকে অস্বীকার করে আসছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ) সকালে সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণকারী ছাত্রলীগ নেতাদের শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মনববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে প্রিয় স্বদেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না থাকায় দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় ধর্ষকেরা বারবার ধর্ষণ করার সাহস পাচ্ছে। ধর্ষনের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি অবিলম্বে ধর্ষণের সাথে জড়িত চিহ্নিত ধর্ষকদের গ্রেপ্তার পূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকার পরেও ছাত্রাবাস কীভাবে খোলা রাখা হলো এবং সিলেট এমসি কলেজের মত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে কীভাবে ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটলো তার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি জানান।

মানববন্ধনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত ঘটনা অতীতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটেনি। এমন নিষ্ঠুর, নৃশংসতা কোনো শুভবোধ সম্পন্ন মানুষ মেনে নিতে পারে না। এসব ঘটনার সাথে সরকারি দলের নেতারা জড়িত থাকার কারণে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। যার কারণে দেশে ধর্ষণের প্রবনতা বেড়েই চলেছে। জুলুম, নির্যাতন বন্ধ করে দেশে যতদিন গণতন্ত্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদিন এ ধরণের কর্মকাণ্ড চলতে থাকবে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মো. মিয়া ভোলা, মোহাম্মদ আলী, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান, মাহবুবুল আলম, এস এম আবুল ফয়েজ, যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলম , ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সম্পাদকবৃন্দ এম সালাউদ্দীন, শিহাবুদ্দীন মুবিন, হামিদ হোসেন, মনোয়ারা বেগম মনি, আবদুল বাতেন, মনজুর রহমান চৌধুরী, মায়মুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোশাররফ হোসেন ডেপ্টি, রফিকুল ইসলাম, জেলি চৌধুরী, আবু মুছা, মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, সালাউদ্দীন লাতু, জাকির হোসেন, জসিম উদ্দীন জিয়া, ইউসুফ সিকদার, বুলবুল আহমদ, ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ মো. আসলাম, শামসুল আলম, রাসেল পারভেজ সুজন, সিরাজুল ইসলাম মুন্সী, সাদেকুর রহমান রিপন, জাহিদুল্লাহ রাশেদ, হাসান ওসমান, জসিম মিয়া, এমরান, অঙ্গসংগঠনের জসিম উদ্দীন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, আলী মুর্তজা খান, জমির উদ্দীন নাহিদ প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...