এমসি কলেজে নববধুকে গণধর্ষণ মামলার ৪ নম্বর আসামি অর্জুন গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ : সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে নববধূকে গণধর্ষণ মামলার ছয় আসামির মধ্যে ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করেছে সিলেট জেলা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অর্জুন জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে।

আজ রোববার সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষমহয়।

এর আগে একইদিন সকাল ৮টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নোয়ারাই খেয়াঘাট থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সিলেটের এমসি কলেজে নববধুকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হলো। বর্বর এই ধর্ষনকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদের নানা বিষয় খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাঠে পুলিশের একাধিক টিমও কাজ করে যাচ্ছে।

সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন সব থানাকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আসামিরা যাতে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে পালাতে না পারে, সেজন্য সর্তক থাকতে বলা হয়েছে থানা পুলিশকে।

এদিকে কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতে অভিযান পরিচালনাকালে সাইফুর রহমান নামের এক অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীর রুম থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার হয় বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

গত শুক্রবার এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা নববিবাহিত এক দম্পতিকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়ার পর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে ওই কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনার দিন রাতেই ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদি হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। মামলা ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)।

এদিকে ধর্ষিতাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গাইনি বিভাগের এক অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে, জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।

চখ/রাজীব

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...