chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

নগরীকে বিশ্বমানে উন্নীত করার সম্ভাবনার দুয়ার খোলা : সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ঐতিহ্যগত ভাবে চট্টগ্রাম ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্রে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর নগরী। এই নগরীকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অনেক অবারিত সম্ভাবনা রয়েছে।

নগরীর অভিভাবক প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশন সত্যিকার অর্থে নানান আর্থিক সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত থাকায় এই নগরীকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে উন্নীত করার মতো দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এটাও সত্য যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রয়েছে।

আজ টাইগারপাসে চসিক সম্মেলন কক্ষে নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও উন্নত চট্টগ্রাম নগরী গড়ার লক্ষে চসিক প্রশাসক কর্তৃক গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর গৌতম বুদ্ধ দাশ, নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) জোবায়ের আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি প্রবীর কুমার সেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস এবং বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি এমএ সালাম।

সুজন বলেন, নগরীর বেনিফিশিয়ারি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয় ও তহবিলের একটি অংশ এই নগরীর জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত হলে এই নগরীকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করার সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। সর্বোপরি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন সেবাখাতগুলোর কার্যক্রম যথাযথ ভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠবে।

চসিক প্রশাসক ভৌগলিক শহর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নাম উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় অর্থনীতির ৮০ শতাংশের বেশি আয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এই কারণেই চট্টগ্রামকে বলা হয় জাতীয় অর্থনীতির হৃদপিন্ড।

আমদানী-রফতানীর ক্ষেত্রেও ৮০ শতাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম থেকেই। এই চট্টগ্রাম থেকে সরকার যে ট্যাক্স নিয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে শতকরা ১ শতাংশ দিলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে অন্য কারোর উপর নির্ভরশীলতা আর দরকার পড়ে না।

পরামর্শক কমিটির প্রধান সাবেক মুখ্য সচিব ও পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে এর সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার সাথে আমি পরিচিত। যে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রাম একটি আন্তর্জাতিক নগরীতে উন্নিত হবে। সে ব্যাপারে উপায় অন্বেষন করা আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এ জন্য আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাব।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত আছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন থেকে যে ম্যাচিং ফান্ড দিতে হয় তা কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি থোক বরাদ্দ পাওয়া ক্ষেত্রে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

পরামর্শক কমিটির সদস্য ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমি ৫ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক ভাল-মন্দ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সেবার পরিধিকে বিস্তৃত করতে গিয়ে সহযোগিতার পাশাপাশি অনেক বাধাগ্রস্তও হয়েছি।

এছাড়াও গণমাধ্যমেরও অনাকাঙ্খিত সমালোচনা, তীক্ত অভিজ্ঞতাও অর্জণ করেছি। আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন ঠিকাদার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর গ্রহণকালীন পাওনা বাবদ ৩শত ৫০ কোটি টাকা ঋণ ছিল। পূর্বের মেয়রের সময়ের এই দেনাগুলো আমি পরিশোধ করেছি।

তিনি বলেন, চলমান উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়ায় দেনা থাকাটাই স্বাভাবিক। এর সমাধান হতে হলে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা অর্জনে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাওনাগুলো যাতে আদায় হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান তৈরি করে দিতে হবে। আমি আমার মেয়াদকালীন সময়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ব্যয় করেছি।

এছাড়াও সরাসরি সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোতে সিটি কর্পোরেশনের ম্যাচিং ফান্ড থেকে ২০ শতাংশ অর্থ প্রদান করেছি। নগরীর চাক্তাই খালের সংস্কারের জন্য ১২ শত কোটি টাকার ফান্ড থেকে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৯শত ৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। অথচ এনিয়েও গণমাধ্যমের কাছে নানা প্রশ্নের সম্মুখি হয়েছি।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মোহাম্মদ আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ পিএসসি, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো.মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক,প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীসহ চসিকের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

এসএএস/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...