আগ্রাবাদ-সিমেন্ট ক্রসিং সড়ক : যানজটে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

বিশেষ প্রতিবেদন : করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বেশ কিছুদিন সুনসান নীরবতা থাকলেও ফের আগের চেহারা ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলো। ছোট-বড় সব সড়কে যানজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। করোনার ভয় উপেক্ষা করে জীবন জীবিকার তাগিদে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মানুষ। তাই রাস্তায় বেড়েছে যান চলাচল। করোনা সংক্রমণ না কমলেও সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে। দিনের অধিকাংশ সময় নগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম আগ্রাবাদ চৌমুহনী মোড় থেকে সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। যানজটে আটকে থাকা গণপরিবহনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি-রফতানি পণ্য ও মালামাল পরিবহন।

সকাল ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত এবং বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।

ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকার কারণে কর্মজীবী মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা অপচয় হয় । এর পাশাপাশি জ্বালানি পোড়ানোর আর্থিক ও পরিবেশগত ক্ষতিতো আছেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কলকারখানা খুলে দেয়া, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দেয়ার কারণে কর্মহীন মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। এ কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল ও যানজট দুটোই বেড়েছে।

আগ্রাবাদ-সিমেন্ট ক্রসিং সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় এখন প্রতিদিনের চিত্র।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চৌমুহনী থেকে শাহ আমানত বিমান বন্দর সড়ক সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে সিমেন্ট ক্রসিং থেকে ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা। সড়কটিতে যানজটের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। এ অংশে সংস্কার কাজ চলছে। ফলে পুরো সড়কটিতে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়ে গণপরিবহনের ধীরগতিতে তীব্র যানজটে দীর্ঘসময় ধরে স্থবির হয়ে থাকছে বন্দর-পতেঙ্গা ও ইপিজেড এলাকা।

যানজটে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

সকাল সাড়ে আটটায় নগরীর দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য বাসে উঠেন রেশমি নামে এক পোশাক শ্রমিক। তার অফিস শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে। ইপিজেড মোড়ে যানযটে আটকে থাকা অবস্থায় তার সাথে কথা হয় সকাল পৌনে ১০টায়।

তিনি চট্টলার খবরকে বলেন, বাসে করে দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা যেতে বড়জোর ৪০ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু যানজটের কারণে এখন সময় লাগছে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। এভাবে চললে হয়তো চাকরিটাই হারাতে হবে।

বারিক বিল্ডিং মোড়ে কথা হয়ে আব্দুল খালেক নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তার সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অব্যবস্থাপনা ও চালকদের অদক্ষতার ফলেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের।

ব্যস্ততম সড়কটিতে অসহনীয় যানজটের জন্য তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। চট্টগ্রাম বন্দরে হঠাৎ পণ্য ডেলিভারি ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যান প্রবেশ বেড়ে যাওয়া, ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চলমান সংস্কার কাজ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার দিন থেকে সংস্কার কাজ তদারক করছেন খোরশেদ আলম সুজন। প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে জরুরি ভিত্তিতে এ সড়কটির কিছু কিছু অংশ সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

খোরশেদ আলম সুজন চট্টলার খবরকে বলেন, অর্থের সঙ্কট আছে কথাটা মানতে হবে। কিন্তু এরপরও ভাঙা সড়কে সংস্কার কাজ থেমে নেই। তিনি বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে ঠিকাদারদের আমি অনুরোধ করেছি। তারাও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ভাঙা সড়ক মেরামত কাজ শুরু করেছেন। খুব শিগগির সড়কের অবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও যানজট বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া যানজট কোনোদিনও কমবে না। চট্টগ্রামের ট্রাফিক সিস্টেমের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সবই বোঝেন। কিন্তু কেউ কাজ করেন না। যতক্ষণ কাজ না করবেন, ততক্ষণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে না। আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি কার্যকর করতে হবে। মোটর স্টেশনে পর্যাপ্ত জায়গা রেখে বাস স্টপেজগুলো নির্ধারণ করলে এবং শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পারলে সম্ভব।

রাজীব/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...