মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন এমপি মোস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে আমাদেরকে স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন তাদের আসন আমাদের হৃদয়ে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অবমাননা করা কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকা প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার মৌলানা আকরাম খা হলে ষড়যন্ত্র ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২৬ জুলাই বাঁশখালীতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা  ডা. আলী আশরাফ মারা যান। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অফ অনার পাওয়ার কথা। কিন্তু কোরবানির গরু বাজার ও করোনা মহামারীর অতিরিক্ত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসন যথাসময়ে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এতে করোনা সংক্রমণ রোধসহ ভিড় এড়াতে উপস্থিত লোকজন মরহুমের দাফন সম্পন্ন করে ফেলে। পরে উজেলা প্রশাসন দেরীতে পৌঁছানোর কারণে  তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে। অনাকাঙ্খিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু কুচক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রপাগান্ডা ছড়ায় এই বলে যে, আমার নির্দেশে প্রশাসন গার্ড অফ অনার প্রদান করেনি। অথচ ওই সময় আমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ছিলাম, কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না। জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রয়োজনে আরো তদন্ত করার দাবী করছি। অনাকাঙ্খিত এ ঘটনায় যদি কোন মুক্তিযোদ্ধা আমার উপর কষ্ট পেয়ে ভূল বুঝে থাকেন তাহলে আমি তাদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী ও মরহুম ডা. আলী আশরাফের ভাই শহীদ মৌলভী সৈয়দ এর প্রতিটি মৃত্যুবার্ষিকী আমি দলীয় কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করি। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের সাথে মহান বিজয় দিবসের দিন জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সমাবেশও করে থাকি। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে নানা মাধ্যমে চালানো অপপ্রচার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। আমি এসব ষড়যন্ত্রেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এম.পি মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি পার্থপ্রতীম নন্দী নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে এ ঘটনা জানতে চেয়ে আমাকে ফোন দেয়। আমিও তাকে ব্যক্তিগতসহ নানা বিষয়ে কথা বলি। পরবর্তীতে তিনি টেলিফোনে কথোপকথন এর অংশবিশেষ  এডিট করে তার মনঃপুত অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইনে অসৎ উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেয়। যা সৎ সাংবাদিকতার পরিপন্থি ও আমাকে বিতর্কিত করার অপকৌশল বলে মনে করি। তাই কোন ধরণের অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাঁশখালীতে যে উন্নয়নকাজ চলমান আছে তা অব্যাহত থাকবে। এসব ষড়যন্ত্রে আমার এলাকার কোনো উন্নয়নই থেমে থাকবেনা।

এসএএস/এএমএস

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...