ডিআইজি প্রিজন বজলুরের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় কারা অধিদফতরের ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

সেই সঙ্গে তার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখও পিছিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন এ নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে বজলুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তার সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।

একইদিন আদালতের কাছে বজলুর রশীদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে দেন। তাছাড়া আগামী ২২ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য করে আদালত।

প্রসঙ্গত : গত বছরের ২০ অক্টোবর বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি আট ৮ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইন ২০০৪ এ ২৭ (১) ধারায় দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে একইদিন সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৬ অগাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দীন চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

চার্জশিটে বলা হয়, বজলুর রশীদ রূপায়ন হাউজিং স্টেট থেকে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী রোডের ৫৫/১ (পুরাতন) ৫৬/৫৭ (নতুন) নির্মাণাধীন স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পের ২ হাজার ৯৮১ বর্গফুট আয়তনের অ‌্যাপার্টমেন্ট কেনেন। অ‌্যাপার্টমেন্টের মূল্য বাবদ ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা পরিশোধও করেন। তবে পরিশোধকৃত টাকার সপক্ষে কোন বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।

এমনকি তিনি অ‌্যাপার্টমেন্টের ক্রয় সংক্রান্ত কোন তথ্য তার আয়কর নথিতে দেখাননি। পরিশোধিত ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদক আইন ২৭ (১) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।

গত ১ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের উপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। একইসঙ্গে ২২ সেপ্টেম্বর চার্জ শুনানির দিন ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বদলির আদেশ দেন।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন জামিন আবেদন না মন্জুর করে বজলুরের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন।

কারা ক্যাডারের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা বজলুর রশীদ ঢাকায় কারা সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করার আগে রাজশাহীতে ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এএমএস/রাজীব

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...