অটোমোবাইল নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানালো বারভিডা

ডেস্ক নিউজ: প্রস্তাবিত অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালাটি দেশের বিদ্যমান শিল্পনীতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি; বরং এটি বিদ্যমান শিল্পনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই নীতিমালাটি পুনঃমূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে প্রস্তাবিত ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা (খসড়া) ২০২০: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি আবদুল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ৯০০ সদস্যের জাতীয় ভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বারভিডার দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে এবং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক লোক কর্মরত রয়েছেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের নতুন অটোমোবাইল নীতিমালায় দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ ভোক্তার কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত, মানসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে তুলনামূলক কম মানসম্পন্ন গাড়ি কিনতে ভোক্তা শ্রেণিকে বাধ্য করার অযৌক্তিক ও অবাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন, মো. আব্দুল হামিদ শরীফসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার লিখিত বক্তব্য:
প্রস্তাবিত অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালাটি দেশের বিদ্যমান শিল্পনীতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি; বরং এটি বিদ্যমান শিল্পনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

প্রস্তাবিত নীতিমালাটি দেশীয় গাড়ি নির্মাণের নামে একটি বড় রকমের স্ক্রু ড্রাইভিং শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। এসকেডিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার ন্যূনতম ১ লক্ষ ইউনিট হলে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে প্রস্তাবিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানির জন্য এখানে সত্যিকারের অটোমোবাইল শিল্প স্থাপন কতটুকু টেকসই হবে তা বিবেচ্য বিষয়। এছাড়া সিকেডির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে ৩০% যন্ত্রাংশ সংযোজনের শর্ত থাকা দরকার।

বাংলাদেশের আমদানিকারকরা গাড়িভেদে সর্বোচ্চ ৮২৬ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন ১২৭ শতাংশ শুল্ক প্রদান করে থাকেন। বারভিডা শুল্ক ও কর বাবদ যে অর্থ প্রদান করে তা সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস। প্রস্তাবিত নীতিমালায় নতুন গাড়ির শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে আহরিত রাজস্বের আকার কেমন হবে তা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

যদি কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে পূর্ণ শিল্প স্থাপনে আগ্রহী থাকে তবে তাদের জন্য বর্তমান শুল্ক ও কর হার এবং প্রণোদনা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দেয়া রয়েছে। বিশ্বমানের কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে গাড়ি নির্মাণ শিল্প স্থাপন করতে চাইলে বারভিডা তাকে স্বাগত জানায়। তবে শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের উপর নির্ভর না করে সেই কোম্পানি যেন নিজেরা রফতানির ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয় সেটি বাঞ্চনীয়।

জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলোর ইমিশন কন্ট্রোল স্ট্যান্ডার্ডস ইউরো ৫ মানদণ্ড শর্ত পূরণ করে বলে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, চিলি ও ইউএই’র মতো শিল্পোন্নত ধনী দেশও জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির অনুমোদন দেয়।

অন্যদিকে ভারত, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো ইউরো ২ বা ৩ মানদণ্ডের হয়, এবং এসব গাড়ি জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশ দূষিত করে।

বারভিডা মনে করে যে, বাংলাদেশ যখন একটি উন্নয়নশীল এবং মধ্যম আয়ের দেশে গ্রাজুয়েশন হতে যাচ্ছে তখন এ দেশের মোটরগাড়ি শিল্পের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ, সম্মুখমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা থাকা বিশেষ প্রয়োজন, যার লক্ষ্য হবে দেশের নাগরিক ও ভোক্তাদের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ নিশ্চিত রেখে একটি প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠা করা। এক্ষেত্রে অবশ্যই দেশে আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বমানের গাড়ি উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।

এমআই/

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...