আর্মি, পুলিশ ও নেভি অফিসার পরিচয় দিয়ে ৯ বছরে ৯ বিয়ে!

লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পোশাক শ্রমিক সোলায়মান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অল্প বয়সী পোশাক শ্রমিক মেয়েদের টার্গেট করে প্রতারণার অভিনব জাল বিছিয়েছিলেন বরগুনা জেলার মো. সোলায়মান (২৯) নামের এক যুবক।

আর তার পাঁতানো জালে পা দিয়েছেন এক এক করে ৯টি মেয়ে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। পা দেবেই না বা কেন? সব মেয়ের বাবা-মাই চাই একজন সরকারি কর্মকর্তা জামাই। সে যদি প্রশাসনের হয়তো কোন কথাই নেই।

ঠিক এমনই পরিবার গুলোকে ফাঁদে ফেলতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অল্প বয়সী মেয়েদের টোপ হিসেবে এক অভিনব পন্থা রপ্ত করেন পোশাক শ্রমিক সোলায়মান।

মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনের পোশাক শ্রমিক হয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কখনো আর্মি অফিসার, কখনো পুলিশ আবার কখনো নেভি অফিসারের পরিচয় দেন সোলায়মান।

আবার তার এ ভুয়া পরিচয় সহজ সরল মেয়েদের কাছে বিশ্বাস যোগ্য করতে নেট থেকে তার অবকাঠামোর সাথে মিল রেখে আর্মি/পুলিশ ও নেভির পোষাক পরিহিত অফিসারদের ছবি ডাউনলোড করে নিত। পরে তা ফটোশপ ও বিভিন্ন এডিট সফটওয়ারের মাধ্যমে মুখমন্ডলটি পরিবর্তণ করে টোপে ফেলা মেয়েদের পাঠিয়ে দিতো সোলায়মান।

প্রতারণার এ জালে পড়ে প্রথমে প্রেমিকা এবং পরে পরিবারকে রাজি করিয়ে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। এভাবে তার ২৯ বছর বয়সে গত ৯ বছরে ৯ জন কিশোরীকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে সোলায়মান।

শুধু বিয়ে করেই ক্রান্ত হয়না। তার স্ত্রীদের ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনকে সরকারি চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাছাড়া প্রায় প্রতিটি স্ত্রীর মাধ্যমে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কাছ থেকে লোন নিয়ে সে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে নতুন স্ত্রী খুঁজে নেওয়ায় ছিলো সোলায়মানের নিত্য পেশা।

অবশেষে প্রতারণার ষোলকলা পূর্ণ হলো সোলায়মানের। নবম স্ত্রীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (বন্দর) বিভাগ ও পাহাড়তলী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় সোলায়মানকে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার সময় পাহাড়তলী থানা এলাকার একটি বাসা থেকে এ প্রতারককে গ্রেফতারের পাশাপাশি তার ১৫ বছর বয়সী নবম স্ত্রীকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া নবম স্ত্রীর মায়ের বরাতে পুলিশ জানায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ১ বছর আগে তার মেয়েকে বিয়ে করেছে সোলায়মান। যৌতুন নিয়েছে ২ লাখ টাকা। বিয়ের পরে জানতে পারে সে প্রতারক।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সোলায়মানের প্রতারণার বিষয়টি সম্পর্কে তার নবম স্ত্রীর মা প্রশাসনকে প্রথম অবহিত করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁহাড়তলী থানার সহযোগীতায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতারক সোলায়মানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর গত ৯ বছরে ৯টি বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় সোলায়মানের বিরুদ্ধে। এখন পর্যন্ত সোলায়মানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন নবম স্ত্রীর মা। অন্যান্য স্ত্রীর পরিবারও মামলা করবেন। এমনটাই জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

চখ/রাজীব

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...