২৯ লাখ টাকা দিয়েও স্বপ্নের চাকরি অধরা

পুলিশের জালে প্রতারক চক্রের মূলহোতা ইব্রাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৯ লাখ টাকা দিয়েও অধরা চাকরির স্বপ্নকে ছুঁতে পারেনি হালিশহরের নিজাম উদ্দিন। বরং হয়েছেন প্রতারিত। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সরকারি চাকরির বয়সও। দেনার বোঝায় স্ট্রোক করে নিজামের ‘মা’ এখন শয্যাশায়ী। আর পিতৃহারা নিজাম উদ্দীন স্বর্বস্ব হারিয়ে এখন পথে বসেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (বন্দর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ভয়াবহ প্রতারনার তথ্য তুলে ধরেন নগর গোয়েন্দা (বন্দর) পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসেন।

নিজাম উদ্দিন চট্টলার খবরকে জানান, সরকারি কমার্স কলেজ থেকে মার্স্টাস শেষ করে দুই বছর সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু কোন কূল-কিনারা হচ্ছিলো না। মাঝে কেডিএস লজিস্টিকে ৬ বছর চাকরি করেছি। ভূয়া নিয়োগপত্র পেয়ে সেটাও ছেড়েছি। আমার বাবা নেই। একটা চাকরির খুব প্রয়োজন ছিলো। সেই সরকারি চাকরির স্বপ্নকে ছুঁতে চার দফায় (৬+৩+২+৪) ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি। আমার দুই বন্ধু মহিন, জুবায়ের। তারাও দুই দফায় ১৪ লাখ টাকা দিয়েছে। কিন্তু কেউ চাকরি পাইনি।

চক্রটি এমনভাবে প্রলোভন দেখালো। ঘুনাক্ষরেও টের পাইনি প্রতারিত হতে যাচ্ছি। ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা সাজিয়ে ফোনে কথা বলিয়ে দিয়েছে। আমাকে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র অডিট অফিসারে নিয়োগ দিবে। কিন্ত তা আর হয় নি। ২০১৭ সাল থেকে চাকরি দিবে বলে বলে ঘুরিয়েছে। এখন আমাদের আর কিছুই নেই। মাথার উপর ঋনের বোঝা। মানসিকভাবে বির্পযস্ত। জানি না সামনের দিনগুলোতে কি হয়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (বন্দর)’র উপ-কমিশনার মোস্তাইন হোসেন চট্টলার খবরকে জানান, প্রতারনার দায়ে চক্রের মূল হোতা ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করেছি। সে ২০১৫ সাল থেকে চাকরি দেয়ার নামে এমন প্রতারনা করে আসছিলো। তার মূল টার্গেট ছিলো শিক্ষিত বেকার যুবকরা। সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতারনার ফাঁদ পাততো।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতার ইব্রাহিম নিজেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিতো এবং একজন মহিলাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এইচআর এডমিন সাজিয়ে ফোনে কথা বলিয়ে প্ররোচিত করতো এবং চাকরি প্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে যেতো। তারপর সেখানে মিথ্যা ইন্টারভিউ নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিতো।

আমরা প্রতারক ইব্রাহিমের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরের ভুয়া নিয়োগপত্র ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছি। প্রতারনার টাকা ক্যাশ লেনদেন করতো। তার কোন পেশা ছিলো না। সে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরির কথা জানালেও তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

২৯ লাখ টাকা দিয়েও স্বপ্নের চাকরি অধরা

মোস্তাইন হোসেন আরও জানান, অনুসন্ধানে নেমে আমরা অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পেয়েছি। যাদের কাছ থেকে প্রতারক ইব্রাহিম বিভিন্ন দফায় ৭০ লাখ টাকা আদায় করেছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা কারা জড়িত তাদের ব্যাপারেও আমাদের অনুসন্ধান চলছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য প্রতারক ইব্রাহিমের বাড়ি নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায়। তাকে চান্দগাঁও থানার পাকা রাস্তা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

কামরুল/চখ/এএমএস

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...