চসিক প্রশাসকের হুঁশিয়ারি, আজ বলে যাচ্ছি কাল থেকে আর ছাড় নয়!

চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীর বড়পুল এলাকায় ফুটপাতের উপর অবৈধভাবে পানির ভাউচার ও ড্রাম রেখে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য করে চসিক প্রশাসক সুজন বলেন, মানুষের চলার পথে কাটা হবেন না। আজ বলে যাচ্ছি কাল থেকে আর ছাড় নয়।

আগ্রাবাদ ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর মার্কেট-বেপারীপাড়া হতে শুরু হয়ে বড়পোল, নিমতলা পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পথ স্কুটি চালিয়ে ক্যারাভান কার্যক্রম পরিচালনার সময় তিনি কথাটি বলেন।

এর আগে তিনি এক্সেস রোড ও বড়পুল এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ইট, বালি, পাথরের অবৈধ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন। তিনি তাদের প্রত আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মালামাল সরানোর নির্দেশনা দেন। এ সময়ে মধ্যে মালামাল সরিয়ে না নিলে সব মালামাল জব্দ করার হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, আগামীকাল ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে কয়েকটি ট্রাক থাকবে অবৈধ মালামাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হবে। এসময় তিনি বিভিন্ন দোকানের ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা জানতে চাইলে কেউই ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শন বা সদুত্তর দিতে পারেননি বিধায় তাদেরকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

এদিকে একই দিনের ক্যারাভান কার্যক্রমে প্রশাসক বড়পুল এলাকার স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন। তারা মইন্যাপাড়া এলাকায় রাস্তার কাজে ড্রেনের ময়লা পানি দিয়ে রাস্তা ঢালাইয়ে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করলে সাথে সাথে মুঠোফোনে ঠিকাদারকে যেটুকু কাজ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে পুনরায় পরিস্কার পানি দিয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।

এসময় তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামীলীগ বা কোন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। অরাজকতা দমনের উদ্দেশ্যেই সরকার নিজেদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জনগণের সেবক ও বন্ধু হয়ে কাজ করুন।

তিনি বড়পুলে নির্মিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের চতুর্পাশে পরিদর্শন করে বলেন, এটি একটি দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান, এস্থানে যাতে অযাচিত কোন কাজ কিংবা অবৈধভাবে কোন দোকানপাট করা না হয় সেজন্য এলাকাবাসীকে দায়িত্ববোধ ও সজাগ থাকতে হবে।

পরে প্রশাসক পোর্ট কলোনী থেকে নিমতলা এলাকায় দীর্ঘসারিবদ্ধভাবে দঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ইস্পাত শিল্পের ভারী লরীগুলোকে এভাবে না রাখার নির্দেশনা ও নিমতলা এলাকায় অলস গাড়ী পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনেরও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এই সড়কটি বন্দর সংযুক্ত একটি সড়ক দীর্ঘ বঞ্চনার পর এই রাস্তা সংস্কারে সিটি কর্পোরেশন যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই সড়কের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন।

তিনি অত্র এলাকার বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি প্রশাসক প্রতিদিন একই রাস্তায় আসা সম্ভব নয় তবে আপনারা যার যার জায়গায় নিজেরা সচেতন হয়ে এলাকাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমার সহযোগিতার দরজা আপনাদের জন্য সবসমসয় খোলা।

তিনি বলেন, আজকে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, আপনাদের সহপাঠি কিংবা ভাই হিসেবে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুরোধ করে যাচ্ছি আগামীকাল হয়তো আমাকে প্রশাসকের কঠোর ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে তখন আমি পরিচিতির আবদার রাখতে পারবো না। আইন আপন গতিতে চলবে।

বুধবারের ক্যারাভান কার্যক্রম পরিচালনার সময় সাবেক কাউন্সিলর লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দীকী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, প্রকৌশলী রেজাউল বারী উপস্থিত ছিলেন।

তাছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, আবদুর রহমান মিয়া, রেজাউল করিম কায়সার, মোর্শেদ আলী, জাকির মিয়া, হাবিব শরিফ, আজিজুর রহমান আজিজ, ইমরান আহমেদ ইমু ও রনি মির্জাসহ শত শত স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিগণ ক্যারাভান কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।

চখ/রাজীব

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...