কাল মহালয়া : এবারের পুজায় প্রতিমা বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা

ধর্ম ও সংস্কৃতি ডেস্ক : পঞ্জিকা মতে মহালয়া আগামীকাল ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। শুভ মহালয়ার মধ্যদিয়ে দুর্গাপুজা য় ক্ষণ গণনা শুরু হচ্ছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মন্ডপে মন্ডপে। প্রতি বছরই পূজার আগে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন মৃৎশিল্পীরা। 

তবে করোনা মহামারির সময়ে এবারের পুজো হবে সর্বত্রই, কিন্তু উৎসবের আড়ম্বর আর থাকছে না। বড় বাজেটের একাধিক পুজো ইতিমধ্যেই খরচ কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছে৷

অন্যদিকে মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় এই উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকবে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি। গত ২৬ আগস্ট সারাদেশে পূজা উদযাপন পরিষদ, মন্দির ও পূজা কমিটির কাছে এই সংক্রান্ত ২৬ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। ফলে এবারের পুজোয় প্রতিমা তৈরি ও বিক্রি নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় চট্টগ্রামের মৃৎশিল্পীরা।

চট্টগ্রামের একাধিক পুজো মন্ডপের আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারিতে লকডাউনের গ্যারাকলে অনেকেই নিয়মরক্ষার পুজো করছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় বাড়েনি নতুন পুজো। তার উপর যারা করছেন প্রতিমা তৈরির বাজেটও কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নিয়ে এসেছেন অনেকেই। ফলে প্রতিমা বিক্রি নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।

চট্টগ্রামের পরিচিত মৃৎশিল্পী আশিষ পাল, দিলীপ পাল, রনজিৎসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে প্রায় সবাই হতাশার সুরেই বলেছেন, অন্যান্য বছর পুজোর ২-৩ মাস আগে থেকেই অধিকাংশ পুজো মন্ডপের আয়োজকরা প্রতিমা তৈরির জন্য বায়না করে। বায়নাকৃত প্রতিমার পাশাপাশি আরো ১০-১৫টি প্রতিমা বিক্রি হয় নতুন নতুন পুজোয়।

তবে এবার করোনার প্রভাবে সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এখনও আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকও অর্ডার আসেনি। যাও এসেছে সেগুলোর বাজেট এতই কম যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সকলের খরচ তুলতে কষ্ট হবে।

পটিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিমা কারিগর আশিষ পাল জানিয়েছেন, পুরো বছরে এটাই তাঁদের আয়ের একমাত্র উৎস৷ এছাড়া প্রতিমা তৈরির সঙ্গে রয়েছেন অনেক কারিগরও। নতুন কোন পুজো উদ্যোক্তা যোগাযোগ করেনি৷ ফলে কারিগর রেখে অতিরিক্ত যে প্রতিমাগুলো তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর বিক্রি নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রামে এবারও দুই হাজারেরও অধিক মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান। জেলা ও নগরে পূজামণ্ডপ বাড়লেও এবার পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা নির্দেশনা মেনে পুজোর উৎসব উদযাপিত হবে।

এবার পঞ্জিকার হিসাবে মহালয়া আশ্বিন মাস “মল মাস” অর্থাৎ অশুভ মাস। সেকারণে এবার আশ্বিনে না হয়ে দেবীর পূজা হবে কার্তিক মাসে।

সেই হিসাবে এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসবেন মহালয়ার ৩৫ দিন পরে। সে হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবীর বোধন হবে। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

চখ/রাজীব

Loading...