পোশাক পরিবর্তনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই

মাহমুদুল হাসান মাছুমঃ পোশাক  হচ্ছে মানব জাতির বিবর্তনের সাথে সাথে ধারাবাহিকতার প্রতীক, অন্তত আমি এটাই মনে করি।

আদিম যুগে গাছের ছাল, গাছের পাতা, পশুর চামড়া মানুষের পোশাক ছিলো। সংক্ষেপে বলতে গেলে- কাপড় আবিষ্কারের পর মানুষ ধীরে ধীরে যত অগ্রসর হয়েছে, পোশাকের ততই পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে মানুষ ক্রমান্বয়ে নিজের জাতি-ধর্মে বিভক্ত হয়েছে এবং নিজেদের চিহ্নিত করতে নিজেরাই পোশাক বেছে নিয়েছে।

নারী-পুরুষের পোশাক তৈরি ও কোন পোশাক নারী এবং পুরুষ পরিধান করবে এ ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা অন্যতম; ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিবর্তনের এইসব ধারাবাহিকতায় ‘পোশাক’ বর্তমানে ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।

আমাদের বাপ কাকারা একসময় যে পাজামা পরতেন, তা বর্তমানের নারীদের প্লাজোর মতো। তাদের পাঞ্জাবির ঝুল ছিলো পাছা বরাবর। এখনকার জেনারেশনের ছেলেদের ওগুলো ফ্রিতে দিলেও গায়ে তুলবে না। নারীদের ক্ষেত্রেও অনেকটা এরকমই।

কেউ কেউ পোশাককে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তুলনা করে থাকেন- তো ‘সংস্কৃতি’ বিষয়টি বিশাল ভাবে বিস্তৃত, যার মাঝে মূলত শিল্প-সাহিত্য, নাচ-গান ইত্যাদিতে ঠাসাঠাসি।

এখন কথা হচ্ছে- যেহেতু সংস্কৃতির ঘোড়েল পণ্ডিতগণ সভা সেমিনারে ব’লে থাকেন, ‘শিল্প-সাহিত্যের কোনো সীমা নেই’- আর সীমা না থাকলে সেটার পরিবর্তন ঘটবে, এটাই স্বাভাবিক।

এক্ষেত্রে বলা যেতেই পারে পোশাক পরিবর্তনেরও কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, কারণ পোশাক শিল্পের বাইরে নয়। এর পরেও যাদের মাথায় পোশাকের পোকা কামড়াকামড়ি করে, তাদের মগজে মূলত জাতি-ধর্মের পোকায় পরিপূর্ণ।

কবি মাহমুদুল হাসান মাছুম

 

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...