‘স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে’

ডেস্ক নিউজ: স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাছাড়া এ লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

গতকাল শনিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) কর্তৃক ডিজিটাল প্লাটফর্মে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএমবিএ প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইডিএলসি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।

শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিদেশিরা বিনিয়োগের জন্য আসা শুরু করেছে। এটা বাজারের জন্য একটা সুখবর। বাজারে বর্তমানে যে লেনদেন হচ্ছে সেটা কিছুই না। এ বাজারে ৩-৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হবে। আর এ লক্ষ্যে পণ‌্যের বৈচিত্র্যতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বিএসইসি বর্তমানে আইসিটির উপর জোর দিচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে বিএসইসি আইসিটির উপর অবকাঠামোগতভাবে পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করবে। কারণ, যে কাজই করা হোক না কেনো আইটিতে দুর্বলতা থাকলে তার সফলতা বর্তমান যুগে হবে না। বাজারে লেনদেন বাড়াতে হলেও আইটির উপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের আইটির সমস্যা সামাধান হয়ে গেলে বাজার অনেকটা দুর্নীতি মুক্ত হয়ে যাবে।

‘ডিএসইর আইটিতে যে সমস্যা হয়েছে সেগুলো রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। সেখানে তারা সুপারিশ করবে স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি সক্ষমতা বাড়াতে কি করতে হবে। সকল পক্ষের টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে এ বাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারও একার পক্ষে বাজারকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”

যেসব কোম্পানির পরিচালকরা এখনো সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে দুই শতাংশে শেয়ার ধারণ করেনি তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনেও আইন অনুযায়ী শেয়ার ধারণ করতে পারেনি তাদের একটি তালিকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য বলবো। তাছাড়া তাদেরকে শেয়ার ধারণের একটি সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর পরিচালকের কাছে আইন অনুযায়ী শেয়ার না থাকলে পদ হারাবে তারা।’

তিনি বলেন, আমরা ‘জেড’কোম্পানিগুলোকে নিয়ে কাজ করছি। এরপর ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট নিয়ে কাজ করবো। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল, যদি কোনো কোম্পানির কার্যক্রম না থাকে তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে কিনে নিতে হবে। সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনেক পুরোনো যেসব ডিবেঞ্চার ঠিকভাবে টাকা ফেরত দেয়নি, আপনারা আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা ফেরত আসার খবর পাবেন। অনেক পুরোনো টাকা ফেরত আসছে দেখবেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বাজারের বিনিয়োগকারীরা যেন সারাক্ষণ সেকেন্ডারি মার্কেট নিয়ে পড়ে না থাকতে হয় তাই বাজারে পণ‌্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো হবে। আমরা শুধু আইপিওর উপর নির্ভরশীল হতে চাই না। এরপাশাশি বন্ড ইস্যু ছাড়াও অন্যান্য পণ‌্য বাজারে আসবে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় বন্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সিএমজেএফের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল ছাড়াও স্টেকহোল্ডারদের অনেকে বক্তব্য দেন।

এমআই/

Loading...