চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ: সিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘চট্টগ্রাম নগরবাসী সত্যিকার বড় মাপের মানুষ।  সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রাম শহর যেমন বিশাল, চট্টগ্রামের অবয়ব যেমন বিশাল, এখানকার মানুষের মন-মানসিকতাও তেমন বিশাল। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি।  আপনারা সকলে আমাকে সহায়তা করেছেন।  আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ 

বিদায়কালে এভাবেই স্মৃতিচারন করছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদ্য বিদায়ী কমিশনার মাহবুবুর রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নগরের কোতয়ালী থানায় ‘হ্যালো এম্বুলেন্স’ সেবা চালু এবং থানার  মূল ফটকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবুর রহমান করোনাকালীন সময়ে ব্যাতিক্রমী সব কার্যক্রম হাতে নিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসিত হন। তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি বা না করি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের একটি দূরত্ব আছে আবহমানকাল থেকে। জন্ম থেকে বড় হয়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক যে ধারণা তৈরি হয়ে আছে,। এই ধারণা থেকে জনসাধারনকে বের করে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম হতে নিয়েছি। কাজ করতে গিয়ে  সারাদেশে অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আমি নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা বেশিরভাগ সদস্যই সুস্থ হয়েছি।

চট্টগ্রামে কর্মরত সকল সাংবাদিকদের সাথে একটি বন্ধুপ্রতীম সর্ম্পক বজায় রাখার চেষ্ট করেছেন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি জানি না ভবিষ্যৎ সিএমপি কমিশনার কিভাবে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।  প্রতিদিন সকালে আমি লোকাল পত্রিকা পড়ি।  আমার অফিসে ৩টা পত্রিকা রাখা হয়। আমি সম্পৃক্ত থাকতাম অনলাইন নিউজের সাথেও।  তাৎক্ষনিক ভাবে সব খবর পেয়ে যেতাম। গণমাধ্যমের তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নিতাম। আমি ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করতাম। কখনো কখনো ৯৫ ভাগ ফোন রিসিভ করতাম। আবার অনেক ক্ষেত্রে কল রিসিভ করতে না পারলে পরে ফোন ব্যাক করতাম।

অনেক সময় ফোন রিসিভ না করলে সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য পাবে না। সঠিক তথ্য না পেলে গুজব ছড়াবে। এই আশংকা থেকে আমি ফোনগুলো রিসিভ করতাম। আমার ধারণা, সবার সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কারও কারও সাথে হয়তো ফিজিক্যালি দেখা হয়নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমি আপনাদের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি। এই শান্তিটুকু নিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) আমেনা বেগম, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোস্তাক আহমেদ খান, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আমির জাফর, উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক (উত্তর) মিলন মাহমুদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আব্দুর রউফ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী জোন) নোবেল চাকমা।

এদিকে দেশে সর্বপ্রথম কোতয়ালী থানায় নাগরিকদের জন্য এম্বুলেন্স সেবা চালু করা হলো। এখন থেকে কোতয়ালী থানার ওসির মোবাইল নাম্বার ০১৭১৩৩৭৩২৫৬, ডিউটি অফিসারের মোবাইল নাম্বার ০১৭৯৪৪৪১৬৬৬, ০১৮৪৭২০২০১৪, ও টিএন্ডটি নাম্বার ৬১৯৯২২’এ যোগাযোগ করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরীর ভেতরে এম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হবে।

কামরুল/চখ/এএমএস

Loading...