কে হতে যাচ্ছেন জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

ডেস্ক নিউজ: দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়ে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের পদত্যাগের পর দেশটিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন কিংবা সরকারের নেতৃত্ব এখন কে দেবেন সেই প্রশ্ন জোরাল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি শুক্রবার বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আবের হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর।

জাপানের এই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ায় এখন দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এলডিপির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে দেশটির পার্লামেন্টেও ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আবে এবং তার মন্ত্রিসভা সরকার পরিচালনা করবে। তবে নতুন কোনও নীতি গ্রহণ করতে পারবে না এই সরকার। দলীয় নির্বাচনে জয়ী প্রেসিডেন্ট ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলডিপির নেতৃত্ব দেবেন। আবের এই রাজনৈতিক দল জাপানের ক্ষমতায় থাকবে ২০২১ সাল পর্যন্ত।

দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এলডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় নতুন প্রেসিডেন্টই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সাধারণত দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এক মাস আগে সময় ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। এই ভোটে তৃণমূলের নেতারা ছাড়াও দলীয় এমপিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। কিন্তু হঠাৎ করে শিনজো আবে পদত্যাগ করায় এখন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দলীয় প্রধান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কারা?

তারো আসো
৭৯ বছর বয়সী দেশটির অর্থমন্ত্রী তারো আসো বর্তমানে উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। শিনজো আবে নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রথম সারির নেতা তিনি। আবে পদত্যাগ করায় এলডিপির নেতা-কর্মীরা তারো আসোকে অস্থায়ী দলীয় প্রধান হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

তারো আসো ২০০৮ সালে এলডিপির নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই দলটির ভাগ্য পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি সক্ষম হতে পারেন বলে অনেকেই প্রত্যাশা করছেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এলডিপি ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করে তিন বছরের জন্য বিরোধী দলে ছিল।

শিগেরু ইশিবা
দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী, এলডিপির নেতা ও আবের সমালোচক ইশিবা (৬৩)। নিয়মিত জরিপে সংসদ সদস্যরা সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। যদিও দলীয় এমপিদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা কিছুটা কম।

২০১২ সালে এলডিপির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে আবেকে পরাজিত করেছিলেন ইশিবা। সেই সময় সমর্থনের জন্য দলটির তৃণমূলের নেতাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে হেরে যান তিনি। এই পর্বে শুধুমাত্র এমপিরা দলীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেন। ২০১৮ সালের দলের নেতা নির্বাচনে আবের কাছে ভরাডুবি ঘটে ইশিবার।

ফুমিও কিশিদা
শিনজো আবে নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কিশিদা। তার এই মন্ত্রিত্বের সময় পররাষ্ট্রনীতির লাগাম মূলত প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

হিরোশিমার অনেকই সাংসদই আবের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে কিশিদাকে ব্যাপকভাবে দেখে থাকেন। কিন্তু ভোটারদের জরিপে একেবারে তলানিতে তার অবস্থান দেখা যায়।

তারো কোনো
৫৬ বছর বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনোর যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে বেশ সুনাম আছে। যুদ্ধকালীন ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রে আবের নেয়া সিদ্ধান্তে দৃঢ় সমর্থন ছিল তার।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কোনোর ইংরেজিতে ব্যাপক দক্ষতা রয়েছে। এর আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে তিনিও রয়েছেন প্রথম সারিতে।

ইয়োশিহিদে সুগা
৭১ বছর বয়সী এই রাজনীতিদ প্রধানমন্ত্রী আবের একনিষ্ঠ লেফটেন্যান্ট। ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে ব্যাপক টানাপড়েন শুরু হলে মিত্রদের সঙ্গে জোট গড়ে ২০১২ সালে আবারও শিনজো আবের ক্ষমতায় ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

দায়িত্ব নেয়ার পর সুগাকে মন্ত্রিসভার মুখ্যসচিব নিয়োগ দেন আবে। সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স।

এসএএস/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...