মাওলানা ফারুকী হত্যার ৬ বছর

ডেস্ক নিউজ: মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৪ সালের আজকের (২৭ আগস্ট) এই দিনে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা

এদিকে ফারুকী হত্যার তদন্ত ৬ বছরেও শেষ হয়নি। কবে নাগাদ তা শেষ হবে এর কোন নির্দিষ্ট সময়ও বলতে পারছেন না তদন্ত কর্মকর্তা। যদিও তিনি তদন্ত শেষে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার আশা ব্যক্ত করছেন।

হত্যার তদন্ত করছে পুলিশের সিআইডি। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সাধারণ ছুটিতে আদালত বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এখনো পর্যন্ত ৪৬বার সময় নিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম স্বোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফরহান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। মাঝে করোনা ভাইরাসের কারণে তদন্ত কিছুটা বিলম্বিত হয়। এখন অগ্রগতি ভালো।

তিনি আরও জানান, হাদিসুর রহমান সাগর নামে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে আরো নতুন নতুন আসামি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ দেশে আছে, আবার কেউ দেশের বাইরে। দেশের বাইরে যারা আছে তাদের গ্রেপ্তার করতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দেশের ভেতরে যারা আছে, তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত শেষ করতে কাজ করছি। যে যে এজেন্ডা আছে, শেষ করতে পারলে চার্জশিট দেবো।’

আসামিপক্ষের এক আইনজীবী জাইদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়ায় আসামিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতি ধার্য তারিখে তাদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এদের মধ্যে অনেকে গরিব। আদালতে আসার খরচও তাদের থাকে না।

তিনি বলেন, তদন্তে পুলিশ যদি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে তাহলে তারা অব্যাহতি পাবেন। আর জড়িত থাকলে বিচার শুরু হবে। কিন্তু এখন সবাইকে আদালতে আসতে হচ্ছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিংবেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসার দরজা খুললে দুইজন লোক প্রবেশ করে নুরুল ইসলামের সঙ্গে ড্রয়িং রুমে বসে। এর কিছুক্ষণ পর আরও ৬/৭ জন বাসায় প্রবেশ করে। বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফারুকীর মামাতো ভাই ফারুক হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যায়। ফিরে এসে দেখেন ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেঁধে ফারুকীকে হত্যা করে। আসামিরা বাসা থেকে নগদ টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার, ক্যামেরা নিয়ে যায়।

মামলায় হাদিসুর রহমান সাগর, আব্দুল গাফ্ফার, মিঠু প্রধান ও খোরশেদ আলম নামে চার আসামি কারাগারে রয়েছে। আর রাকিব ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাকিব, তারেকুল ইসলাম মিঠু, আলেক ব্যাপারি, মোজাফ্ফর হোসেন ওরফে সাঈদ জামিনে আছে।

নিহত ফারুকী ‘চ্যানেল আই’র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’, ‘মাই টিভি’র লাইভ অনুষ্ঠান ‘সত্যের সন্ধানে’র উপস্থাপক ছিলেন। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন।

এমআই/

Loading...