বাংলাদেশকে কৃষিতে সহযোগিতার আশ্বাস ভারতের

ডেস্ক নিউজ : কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রীভা গাঙ্গুলি কৃষিপণ্য যান্ত্রিকীকরণ ও প্রসেসিংয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ আজ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে দু’দেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, কৃষি প্রকৌশল এবং ডেইরি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একসময় কৃষিখাত কম উৎপাদনশীল ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ এবং কৃষিখাতে প্রণোদনার ফলে কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও আধুনিকীকরণ করা। সেজন্য কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে দু’দেশের একসাথে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এসময় কৃষিমন্ত্রী এগ্রো প্রসেসিং ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। দু’দেশই কৃষিপ্রধান। আমরা দ্রুত শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি। সেটি করতে হলে অভ্যন্তরীণ বাজার বড় করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা ও উন্নত করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার বাড়াতে হবে। সেজন্য, শুধু কৃষিতে নয়, শিল্পায়ন, সার্ভিস সেক্টরসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র। ভারতের সাথে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের এ সম্পর্ক অটুট থাকবে। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে ভারত ও বাংলাদেশের কো-অপারেশনে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর উল্লেখ করে বিদায়ী হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি বলেন, আমরা কোভিডের মধ্যে দেখেছি বোরো খুব ভাল হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরাও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উদ্বৃত্ত। যারা কোভিডে খুব অ্যাফেকটেড হয়েছে তাদের যাতে খাদ্যাহারে কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে বাংলাদেশের প্রচুর অর্জন। বাংলাদেশে কীভাবে এ সফলতা এসেছে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে।

রীভা গাঙ্গুলি বলেন, কতো ইনোভেটিভ জিনিস করা হয়েছে কৃষি খাতে, যাতে বাংলাদেশ এ জায়গায় পৌঁছেছে যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। কৃষি খাত এমন একটি এরিয়া আমাদের মনে হয় যেখানে প্রচুর কো-অপারেশন হতে পারে। কারণ আমাদের একটা লোকেশনের সুবিধা আছে। অনেক কানেকটিভিটি প্রজেক্ট হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে। অ্যাগ্রো প্রসেসিং, ডেইরি; এগুলো সহযোগিতার খুব গুরুত্বপূর্ণ খাত।

‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে অ্যাগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং এগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার খাত হিসেবে। ’
এসএএস/

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...