করোনাভাইরাস: বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ: মহামারি করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৮  লাখ ছাড়িয়ে গেছে।৮ মাস আগে চীনে শুরু হওয়া এ ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও ভারতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার মধ্য দিয়ে শনিবার বিশ্বজুড়ে মহামারীর মৃত্যু সংখ্যা দুঃখজনক এই মাইলফলকটি পার হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রোববার সকালে বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৩ হাজার ৪৯৯ জনে। একই সময় বিশ্বব্যাপী মোট শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫৮ জন।

১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৪৮টি মৃত্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ তালিকার শীর্ষে আছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫০ জনের। তৃতীয় স্থানে থাকা মেক্সিকোতে মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ২৫৪ জনের। এই তিনটি দেশেরই অবস্থান দুই আমেরিকা মহাদেশে। আর ৫৬ হাজার ৭০৬টি মৃত্যু নিয়ে মেক্সিকোর পরই আছে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ দক্ষিণ এশিয়ার ভারত। শুক্রবার পর্যন্ত আগের দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা রয়টাসের হিসাব অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এ গড়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৯০০ জন মারা যাচ্ছেন।

এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় করোনাভাইরাস প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ২৪৬ জনের আর প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজনের। চলতি মাসের ৫ অগাস্ট বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছিল, এরপর আরও এক লাখ মৃত্যু যোগ হতে লাগলো আরও ১৭ দিন। এই হিসাবে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর হার স্থিতিশীল আছে, কারণ মৃত্যুর সংখ্যা ৬ লাখ থেকে ৭ লাখে পৌঁছতেও একই সময় লেগেছিল। ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৭ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত নিয়ে এ তালিকায়ও বিশ্বের শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আছে যথাক্রমে ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

রয়টার্স জানিয়েছে, লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে এখানে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ড. মাইক রায়ান জানিয়েছেন, মেক্সিকোতে পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়াতে দেশটির সরকারি তথ্যে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পায়নি। দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা ডব্লিউএইচও’র।

শনিবার ভারতে দৈনিক শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার নতুন রেকর্ড হলেও পরদিন রোববার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এ দিন সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মোট ৬৯ হাজার ২৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ ছাড়িয়ে ৩০ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে নতুন করে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। দেশজুড়ে ভাইরাসের বিস্তার রুখতে কঠোর সামাজিক দূরত্ব বিধির নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধ আরও শিথিল করেছে সৌদি আরব। ৩০ অগাস্ট থেকে দেশটির সরকারি কর্মচারীরা দপ্তরে উপস্থিত হয়ে কাজ শুরু করবেন বলে জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ পার হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে জুলাইতে সংক্রমণের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এখন কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে তারা।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...