ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজন অপসারনে জেলা প্রশাসনের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজনকে অপসারণের জন্য পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর নেতৃত্বে চারটি সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনারগণ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছেন।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম; সিএমপির একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম জাকারিয়া নেতৃত্বে আকবর শাহ থানাধীন ফিরোজ শাহ এলাকাস্থ ঝিল এলাকা পরিদর্শন করেন। ফয়েজ লেক ও আশেপাশের এলাকার প্রায় ৩২৫ একরের মতো জায়গা কনকর্ড গ্রুপ কে রেলওয়ে বিনোদন পার্ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য লীজ দিয়েছিল। ২০১৭ সালে রেলওয়ে কনকর্ড গ্রুপের সাথে লীজ বাতিল করে।

যার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রীট দায়ের করে কনকর্ড গ্রুপ। এরপর ফয়েজ লেক এলাকার চারদিকের পাহাড়ি জমিতে স্থানীয়রা অপদখল চালায়। লীজ গ্রহীতা কনকর্ড গ্রুপ ও রেলওয়ের নজরদারির ঘাটতিতে ঝিল এলাকায় পাহাড়ি জমি কেটে অবৈধ ও ঝুঁকি পূর্ণ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

উচ্চ আদালতে রীটটি এখনো অনিষ্পন্ন থাকায় রেলওয়ে কিংবা কনকর্ড গ্রুপের পক্ষ থেকে সময়োচিত পদক্ষেপ-ও গ্রহণ করা হচ্ছে না। ঝিল এলাকায় বিভিন্ন স্বনামধন্য এনজিও সংস্থাও কাজ করছে। ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড়েই এনজিও-র অঅর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে নানা প্রকল্প।

নির্মাণ করা হয়েছে ঘর, স্কুল, স্যানিটারি টয়লেট। এমনকি আজকে পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা জানায় ঝিল এলাকায় জাইকার অর্থায়নে ওয়াসার পক্ষ থেকে সুউচ্চ পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম জাকারিয়া ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরতদের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিতে আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত পতিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম এর পরিদর্শক আজহারুল ইসলামকে উক্ত পাহাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি স্পটের পাহাড় কর্তনের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেন। উক্ত ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি), কাট্টলী সার্কেল মোঃ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড়ি ঝিল এলাকা পরিদর্শন কালীন সময়ে জমির মালিক সরকারি সংস্থা রেলওয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

আকবর শাহ এলাকা পরিদর্শনের পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এস এম জাকারিয়া বাটালি হিল, মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনীর পাহাড়ি ঝুঁকি পূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উক্ত ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ভারী বর্ষণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে সময়োচিত নিরাপদে অপসারণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাকলিয়া সার্কেল আশরাফুল হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), আগ্রাবাদ সার্কেল আবদুস সামাদ শিকদার কে নির্দেশ দেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৭ টি ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে ২০১৯ সালে ৮৩৫ টি পরিবারের মধ্যে ৭৬৩ টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে সংশ্লিষ্ট পাহাড়ি জমি মালিক ও প্রতিষ্ঠান কে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল। বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ।

সরেজমিনে আজকের পরিদর্শনে দেখা যায় উক্ত স্থানের অনেক জায়গা বিশেষ করে মতিঝর্ণা-বাটালি হিল এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।

এছাড়া আকবর শাহ ঝিল এলাকাতেও বিদ্যুৎ এর প্রি-পেইড মিটার চলছে। ইউটিলিটি সার্ভিস প্রদান কারী সংস্থার উপর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু আছে। এখনো বিচ্ছিন্ন করা হয়নি ঝুঁকি পাহাড়ের অবৈধ সংযোগ

Loading...