শফিউল বারী বাবুর স্মৃতিকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে: ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও চসিক মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবুর অকাল মৃত্যুসংবাদ আমাদের জন্য ছিল ভীষণ বেদনার।

তিনি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করে তিনি নিজেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বৃহত্তর চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক ভীত মজবুত করার জন্য তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বাবু ছিলেন কর্মী বান্ধব ও জনসম্পৃক্ত নেতা। তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি কত জনপ্রিয় ছিলেন। বাবুর স্মৃতিকে ধারণ করে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল’র কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল’র উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অডিটরিয়াম হলে এক শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বাবু যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা বিএনপির নেতাকর্মীদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে। তিনি শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শে আস্থাশীল হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে যে অবদান রেখেছেন নেতাকর্মীরা তা কোনোদিন ভুলবে না। তার মৃত্যুতে দলের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়। দলের প্রতি তার অবদানকে নেতাকর্মীরা আজীবন স্মরণে রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবক দলকে শক্তিশালী করতে বাবু গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন। একজন আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে তিনি কখনোই নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি যুক্ত ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও মহামারীর মধ্যে তার অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তার মৃত্যুতে বিএনপি দলের একজন দক্ষ ও যোগ্য নেতাকে হারালো।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, শফিউল বারী বাবু একজন দল অন্তপ্রাণ ব্যক্তি হিসিবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সৎ, বিনয়ী ও ভদ্র মানুষ। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার কর্মগুণেই তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। আমরা শফিউল বারী বাবুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সি: সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলার আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, শফিউল বারী বাবু ওয়ান ইলেভেনের কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার
মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বাবুর মৃত্যুতে স্বেচ্ছাসেবক দল তাদের অবিভাবককে হারালো।

বিশেষ বক্তার বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ছিলেন শফিউল বারী বাবু। এই রাজনৈতিক সংকট ও দুর্যোগকালীন সময়ে বাবুর মত যোগ্য নেতার খুবই প্রয়োজন ছিল।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান বলেন, শফিউল বারী বাবুর রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে স্বেচ্ছাসেবকদলকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাবো।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এ
আজিজ, শফিকুর রহমান স্বপন, যুগ্ম সম্পাদক ইয়ছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী,
মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মুরসালিন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম তালুকদার, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক
দলের সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সি:সহ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সি: যুগ্ম-সম্পাদক আলী মুর্তুজা খান, যুগ্ম
সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...