লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, প্রাণ হারালো ৪৫ শরণার্থী

ডেস্ক নিউজ : ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে অবৈধ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের মধ্যে পাঁচ শিশুও রয়েছে। চলতি বছরে লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এটিই সবচেয়ে বড় হতাহতের ঘটনা। বুধবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়া ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকাটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। নৌকার ইঞ্জিন বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জেলে ও উদ্ধারকারীরা ৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৪৫ জন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্ধার অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযান তরান্বিত না হলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়বে বলে আশংকা সংস্থা দুটির। নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা বেশিরভাগই আফ্রিকার দেশ সেনেগাল, মালি, শাদ এবং ঘানার বাসিন্দা বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে চলতি বছরে এরই মধ্যে তিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, এই হিসাবের চেয়ে আসল প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

গত এক দশকে আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট হয়ে উঠেছে লিবিয়া। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর চরম রাজনৈতিক সঙ্কটে রয়েছে দেশটি। সেই সুযোগে মানবপাচারকারীরা এই পথটিকে ইউরোপে প্রবেশের জন্য বেছে নিচ্ছে। চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ বিপৎসঙ্কুল হওয়ার পরও এই পথ পাড়ি দিতে হাজার হাজার মানুষ নিজের দেশ ছাড়েন। তবে খুব কমই শেষ পর্যন্ত ইউরোপের মাটিতে পৌঁছাতে পারেন।

 

এসএএস/

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...