সিনহা হত্যা: গ্রেফতার এপিবিএনের ৩ সদস্য ৭ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শ্যামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ঘটনাস্থলে উপস্থিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যের সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এরা হলেন- এপিবিএনের এসআই শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও কনস্টেবল মো. আবদুল্লাহ।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হত্যায় জড়িত সন্দেহে ওই তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ্ রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে তাদের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের আইনজীবী বাপ্পী শর্মা জানান, এপিবিএনের এই তিন সদস্যকে সোমবার (১৭ আগস্ট) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে সিনহা হত্যায় দায়ের করা জিআর ৭০৩/২০২০ (টেকনাফ) মামলায় মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

কখন থেকে রিমান্ড কার্যকর করা হবে- এমন প্রশ্নে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন, সুবিধাজনক সময়ে তা কার্যকর করা হবে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ঘটনার সময় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করা এপিবিএনের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে হত্যাকাণ্ডে তারা সম্পৃক্ত। সব পর্যালোচনা করে তাদের গ্রেফতারের পর রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সিনহা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এসআই লিটন, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আইয়াছ গ্রেফতার রয়েছে। এদের সবাইকে সাতদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

গত ৩ জুলাই শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাসকিনকে নিয়ে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান কক্সবাজার আসেন ভ্রমণবিষয়ক ভিডিও চিত্র ধারণ করতে। ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিষবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

৫ আগস্ট টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওসি প্রদীপসহ সাত আসামি।

এসএএস/

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...