‘ওয়ানটাইম’ কাপে চা পানে হতে পারে ক্যান্সার

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্লাস্টিকের তৈরি ‘ওয়ানটাইম’ কাপে চা পান করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের কাপে গরম চা, কপি অথবা গরম দুধ পান করলে হার্ট, কিডনী, লিভার, ফুসফুস, ক্যান্সার এবং ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

প্লাস্টিকের এসব কাপ তৈরিতে ব্যবহার হয় পলিস্টারিং জাতীয় পলিমার। এছাড়াও প্লাস্টিকের সাথে থাকা এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান যা মানবদেহের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। তাই এখনই ‘ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা দরকার বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ধরনের ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিক কাপ পলিপ্রোপিলিন জাতীয় পদার্থ গলিয়ে তৈরি করা হয়। এগুলো সাধারণত পাতলা হওয়ায় গরম লেগে গলে যেতে পারে। ফলে চা-কপির সাথে মানবদেহে প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন এই পদার্থ মানবদেহে প্রবেশ করতে থাকলে রক্ত সাঞ্চালনে ব্লক সৃষ্টি করে। মানবদেহে দীর্ঘদিন এই পদার্থ জমে থাকা স্থানে ঘাঁ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ফুসফুস, কিডনী, লিভার ও ক্যান্সারজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে।

করোনাকালীন এই সময়ে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নামী-দামি রেস্টুরেন্টগুলোতে বেড়েছে ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিক কাপের ব্যবহার। মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সুরক্ষার অংশ হিসেবে এই ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিক কাপকেই বেছে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে এদের অধিকাংশই ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিক কাপের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানেন না।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে চায়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ দোকানে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব প্লাস্টিকের কাপ। ফলে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিজের অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে মানুষ। ইমন নামে একজন জানান, ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিকের কাপ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এটা জানতাম না। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অন্য মানুষের সংস্পর্শ থেকে বাঁচতে এ ধরনের কাপে চা পান করছে মানুষ। যেহেতু আগে প্রতিদিন একটি কাপ দিয়ে ১০-১৫ জন মানুষ চা পান করত তাই করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এই প্লাস্টিক কাপকেই সুরক্ষিত মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

জসিম নামে এক চা বিক্রেতা জানান, আগে যে ধরনের কাপে চা বিক্রি করতাম এখন সেই কাপে চা দিলে কাস্টমাররা খায় না। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিকের কাপে চা বিক্রি করছি আমরা।

এ ব্যাপারে এনভাইরনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসাইন জানান, এ ধরনের কাপে নিয়মিত চা, কপি, দুধ বা গরম পানি করলে ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়তে পারে। এছাড়াও কিডনি, লিভার ও প্রজননজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যা সব ধরনের সব বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, প্লাস্টিকের কাপ মূলত দুই ধরনের। এদের মধ্যে যেটি শক্ত তা স্বাস্থ্যের জন্য তেমন একটা ক্ষতিকর না। যেটি নরম ও স্বচ্ছ প্লাস্টিকের তৈরি সেটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এই ধরনের প্লাস্টিকের কাপে একটি পদার্থ থাকে গরম লাগলে গলে গিয়ে চা বা কপির সাথে মিশে যায়। একজন মানুষ যদি নিয়মিত এ ধরনের কাপে চা-কপি পান করতে থাকেন তাহলেই কেবল তার শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এমআই/

Loading...