জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, দামও চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালী ইলিশ। বাজারে ছোট বড় ডিম ওয়ালা ইলিশ মাছ মিললেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব ইলিশ। চট্টগ্রামের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নতুন ফিসারি ঘাটে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ইলিশ বোঝাই ট্রলার ভিড়ছে। ফিশারি ঘাট এখন রীতিমতো ইলিশে ইলিশে সয়লাব।

বঙ্গোপসাগর থেকে ফিশিং ট্রলারে ইলিশ নিয়ে জেলেরা ফিসারিঘাটে আসছে। জেলে, ব্যাপারী আর পাইকারী ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে আছে ফিশারিঘাট। তবে ইলিশে সয়লাব হলেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। বড় সাইজের ইলিশ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

সোমবার সরেজমিনে চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাট ঘুরে এবং জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ২৩ জুলাই থেকে ট্রলার নিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে বেরিয়ে পড়ে। সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে এসব ট্রলারে মাছ ভর্তি করে কর্ণফুলী নদীর তীরে ফিরছেন জেলেরা।

ডফশিং ট্ররারের জেলেরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশের আকারও বেশ বড়। দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। নগরীর ফিসারিঘাট ছাড়াও কাট্টলী, আনন্দবাজার ঘাট এলাকায় ইলিশ শিকার করে মাছ নিয়ে ফিরছেন জেলেরা। স্থানীয়ভাবে এসব ঘাটে ইলিশ বিক্রি হয় দেদারছে। পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতারাও এখান থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে যান।

নগরীর ফিশারিঘাটে ইলিশ নিয়ে আসা এফভি জান্নাত ট্রলারের মালিক ও মাঝি মো. রিদুয়ান বলেন, ৮ দিন আগে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া অংশে মাছ মারতে যান ২৪ জন জেলে নিয়ে। সব মিলিয়ে ২ লাখ টাকার কাছাকাছি খরব পড়লেও মাত্র দেড় লাখ টাকার ইলিশ মাছ বিক্রি করতে পেরেছিন। তিনি বলেন, বড় ৩ মণ ইলিশ এবং ছোট মাঝারি মিলিয়ে মোট ১২ মণ ইলিশ শিকার করতে পেরেছেন তিনি।

আরেক মাঝি বলেন, সাগরে এখন প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। এসব ইলিশ আকারেও বড়। জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ উঠে আসছে। ঘাটে এসে পাইকারদের কাছে মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

বড় সাইজের প্রতিমণ ইলিশের মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজারের মধ্যেই। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতিমণ ১২ থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এসব ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা কেজি। ছোট সাইজের ইলিশের দাম ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

চট্টগ্রাম ফিসারিঘাটের মাছের আড়তদাররা জানান, মাছের ট্রলার ফিসারিঘাটে আসার পর মাছ আড়তে তুলে প্রকাশ্যে নিলামে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রথমে পাইকার একটি নির্দিষ্ট দাম উল্লে¬খ করেন, এর পর উপস্থিত ক্রেতারা তাদের সাধ্য অনুযায়ী দাম হাঁকান। এর পর যার দাম সবচেয়ে বেশি তার কাছে মাছ বিক্রি করেন পাইকাররা।

বাবুল সরকার আড়তের ম্যানেজার মানিক বলেন, আড়তে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকাতে দাম একটু বেশি। দুই একদিন পর ইলিশের দাম কমতে শুরু করবে।

হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি থেকে মাছ কিনতে ফিসারিঘাটে এসেছেন খুচরা বিক্রেতা রুবেল। তিনি ২০ বড় ইলিশ ৩৫ হাজার টাকা মণ এবং ৫০ কেজি ছোট ও মাঝারি ইলিশ কিনেছেন ১৯ হাহার ৩০০ টাকা মণ দরে।

এসএএস/

Loading...