কোকেন চোরাচালানে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিল র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের কোকেন চোরাচালানের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব- ৭।

এতে খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) অভিযোগপত্রটি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা র্যা বে কর্মরত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

অভিযোগপত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা প্রকাশ সোহেল (৩৯), খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ (৪৯), আবাসন ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা কামাল (৪২), সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদী আলমকে (৩১) আসামি করা হয়েছে।
আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন, গার্মেন্ট পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী মো. আতিকুর রহমান (২৯), কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে এম আজাদ (৪৮), সিএন্ডএফ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম (৩২), খানজাহান আলী গ্রুপের পরিচালক মোস্তাক আহাম্মদ খান (৪৫), লন্ডনে অবস্থানরত ফজলুর রহমান (৩৫) ও মো. বকুল মিয়া (৩১)। তাদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। তার ভাই মোস্তাক আহাম্মদ খান শুরু থেকেই পলাতক। যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফজলুর রহমান এবং বকুল মিয়াকেও পলাতক দেখানো হয়েছে।

কারাগারে আছেন গোলাম মোস্তফা সোহেল এবং আতিকুর রহমান। বাকি চার আসামি জামিনে আছেন।

এর আগে ২০১৫ সালের ৬ জুন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের চালান জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এরপর ২৭ জুন তেলের চালানের ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত হয়। বলিভিয়া থেকে আসা চালানটির প্রতিটি ড্রামে ১৮৫ কেজি করে সূর্যমুখী তেল ছিল। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারসহ চারটি পরীক্ষাগারে তেলের চালানের দুটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত হয়।
কোকেন জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রামের বন্দর থানায় ২০১৫ সালের ২৭ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালানের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। আসামি করা হয় চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদকে।
ঘটনার পাঁচ মাস পর ২০১৫ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ নূর মোহাম্মদকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আটজনকে আসামি করে আদালতে মাদক আইনে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে চোরাচালান আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দুটিতে চালানের গন্তব্য অজানা, আন্তর্জাতিক চক্র শনাক্ত না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ নারাজি আবেদন করলে আদালত র্যা বকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

র‍্য‍্যাব নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল আদালতে মাদক আইনে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত তা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর এবার চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায়ও অভিযোগপত্র দিল র্যা ব।

এসএএস/

Loading...