রেমিনিসেন্স ব্যান্ডের ৯ বছরের পথচলা

“চম্পকনগর স্ববন দেগোংদ তহ বুগত, আরহ ফিরিবার”( তোমার বুকে চম্পকনগরকে ফিরে আসার স্বপ্নদেখি) এ গান দিয়ে ২০১৯ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাতাচ্ছেন রাঙামাটির জনপ্রিয় ব্যান্ড রেমিনিসেন্স। গানটিতে চাকমাদের হারিয়ে যাওয়া আদিনিবাস ” চম্পকনগর” কে ফিরে পাওয়ার আকুলতা প্রকাশ করা হয়েছে। হাতের মুঠোফোনটির বদৌলতে গানটি এখন হাজার হাজার শ্রোতার এখন পকেটে পকটে ঘুরছে। আজ কথা বলব এই জনপ্রিয় গানটির রেমিনিসেন্স ব্যান্ডের দলনেতা সৌখিন দেওয়ান এর সাথে।

 

রেমিনিসেন্স ব্যান্ডের দলনেতা সৌখিন দেওয়ান

চট্টলার খবরঃ কেমন আছেন?
সৌখিন দেওয়ানঃ জ্বী ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?
চট্টলার খবরঃ ভালো আছি। চলুন তাহলে হাজার হাজার পছন্দের রেমিনিসেন্স ব্যান্ড সম্পর্কে জানি।
সৌখিন দেওয়ানঃ অবশ্যই।

প্রশ্নঃ আপনাদের ব্যান্ডের যাত্রা কখন থেকে? ২০১১ সালের ১২এপ্রিল থেকে আমাদের এই পথচলা।

প্রশ্নঃ ব্যান্ডের নাম রেমিনিসেন্স রাখলেন কেন?

আসলে রেমিনিসেন্স অর্থ পূর্বস্মৃতি। আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সে অনুসারে আমাদের ব্যান্ডের নাম রেমিনিসেন্স রাখা। আর বিশেষ কোন কারণ নেই।

রেমিনিসেন্স ব্যান্ডের সদস্যরা

প্রশ্নঃ ব্যান্ডের ভোকাল আর সদস্য সম্পর্কে যদি বলতেন,?

আমরা শুরু থেকে ৪জন ছিলাম। দ্বীপ চাকমা, দীনুপম আসাম, আকিহিত চাকমা, সৌখিন দেওয়ান আমি। ২০১৪ সালে এসে আমাদের সাথে যোগ দেয় কসমিন চাকমা।
রেমিনিসেন্সে বর্তমানে চারজন লাইনআপে রয়েছি-
কসমিন চাকমা (ভোকাল)
দীনুপম আসাম ( গিটার)
সৌখিন দেওয়ান (বেইজ)
আকিহিত চাকমা (ড্রামস)

মিত চাকমা সুলভ( ম্যানেজার)   

ভোকালিস্ট কসমিন চাকমা

প্রশ্নঃ ব্যান্ডের শুরুর দিকের গল্পটা বলা যাবে?ছোটবেলা থেকেই আমাদের গানের সাথে বড় হওয়া। ২০১২ আমাদের ফুল বিঝুর রাতে বন্ধুরা মিলে গিটার দিয়ে গান করছিলাম। এমন সময় চিন্তা করলাম, একটা ব্যান্ড দল গঠন করলে কেমন হয়?তখন মাত্র ক্লাস নাইনে পড়তাম। যেই চিন্তা সেই কাজ গিটার,বেস, ড্রামস নিয়ে নেমে পড়লাম ব্যান্ড গড়ার প্রত্যয়ে। এভাবেই এতদুর আসা।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় প্রোগ্রাম করেছেন?
সে তো অনেক জায়গায় করেছি। এত গুলো নাম বলা অসম্ভব একটা ব্যপার।  তবে আমরা জুম্ম আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড কমিউনিটি(জেইউবিসি) নামক কমিউনিটিতে তিন বছর যুুুক্ত ছিলাম।যেটি তিন পার্বত্য জেলার সকল ব্যান্ডের জোট। এটি আদিবাসী সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে কাজ করছে বহুবছর ধরে। সেখানে পর পর তিন বছর পারফর্ম করেছি। তবে এখন নেই। এছাড়া আমরা ৭২টা উপরে প্রোগ্রাম করেছি।

প্রশ্নঃ ব্যান্ডে এতদূর আসতে কি কোন সমস্যায় সম্মুখিনে পড়েছেন? বাবা মার সাপোর্ট কতটা ছিল?

না তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি আমাদের। কারণ শুরু থেকে আমাদের মা বাবারা সবাই পাশে ছিল। বলা যায় আমাদের থেকে আমাদের বাবা মায়েদের উৎসাহ আরও বেশি। আর আমরা যথাসময়ে পড়াশোনাটাও চালিয়ে নিতাম। যা কারণে তেমন সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি।

প্রশ্ন “চম্পক নগর ” গানটি সম্পর্কে যদি বলতেন?

চম্পক নগর গানটি আমাদের নিজস্ব একমাত্র গান। যেটির কথা লিখেছেন আমাদের ভোকালিস্ট কসমিন চাকমার বাবা বহ্ম চাকমা (লালপা)। সুর করেছি আমরা। গানটিতে মডেল করেছেন সারা চাকমা এবং আখিহিত চাকমা।

ভিডিও মেকিংয়ে ছিল ফোকাস সেট শুট।
চম্পক নগর আমাদের চাকমার আদিনিবাস। কিন্ত নতুন প্রজন্ম অনেকেই অজানায় থেকে রয়েছে। কারন এটার সম্পর্কে পাঠ্যপুস্তকে লেখা নেই । আর অনেকেতো পাঠ্যপুস্তক ছাড়া অন্য বই পড়েইনা। যার ফলে জানার বাইরে ছিল। তাই আমরা গানের মাধ্যমে আমাদের বিলীন হওয়া আদিনিবাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছি।

প্রশ্ন ঃগান পেশা না নেশা?

গানকে ভীষণ পছন্দ করি। কিন্ত গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রশ্নই যেন ওঠেনা। কেননা গানের সোনালী দিনগুলো দিন প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ভাল গান যেমন নেই, অন্যদিকে পর সংস্কৃতি চর্চাতো চেপ্টে বসেছে আমাদের ঘাড়ে । পরের গান নিয়েই মশগুল আছি। তাই নিজ সংস্কৃতিকে আগলে রাখার মানুষ দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। তবে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে গানের সোনালী দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে। তাই বলতে পারেন শখের বশে অথবা স্বসংস্কৃতি টানে আমাদের পথচলা। পেট চালাতে অন্য ব্যবস্থা করতেই হবে।

প্রশ্নঃ বর্তমানে কি করছেন? কোথায় পড়াশুনা করছেন?
আমরা এখনও কেউ  বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরোইনি। আমি আর আকিহিত রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ডিপার্টমেন্টে পড়ছি। কসমিন চাকমা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আছেন আর দীনুপম চাকমা চট্টগ্রাম কলেজে দর্শন বিভাগে।

প্রশ্নঃ শ্রোতাদের জন্য কোন সুখবর আছে?

হাহাহা, সুখবর কিনা জানিনা। তবে আমাদের আরেকটি চাকমা গান আসছে “পরানি” নামে। গানটির ৭০% কাজ ইতোমধ্যে শেষ। মহামারীর এ দুঃসময়ের জন্য গানটির শুটিং আটকে আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা গানটি শ্রোতাদের মাঝে নিয়ে আসবো। আর একটি অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছি। আশা করি ২০২২ সালের মধ্য কাজ শেষ করতে পারবো।
চট্টলার খবরঃ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
সৌখিন দেওয়ানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Loading...