‘হুয়াওয়ে চীনা সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন’

আন্তর্জাতিক  ডেস্ক : ‘হুয়াওয়ে সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন অথবা সমর্থনপুষ্ট’ চীনের টেলিকম জায়ান্ট কোম্পানি হুয়াওয়েসহ দেশটির শীর্ষ ২০টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‌, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ভিডিও নজরদারির প্রতিষ্ঠান চায়না টেলিকম, হিকভিশন, চায়না মোবাইল ও এভিআইসি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চীনের বিরুদ্ধে দেশটির নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথ সুগম হলো বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, এই তালিকা আর বড় হতে পারে বলে ধারণা। চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে স্পর্শকাতর প্রযুক্তি দেশটির সামরিক বাহিনীর কাছে পাচার করছে, মার্কিন কংগ্রেশনাল কমিটি, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও চীনা ব্যবসায়ে মার্কিন অংশীদারদের জানানোর জন্যই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ‘মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত’ যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আছেন তাদের খুজে বের করার দায়িত্ব দেশটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

সিনেটরদের ওপর নীতি পর্যালোচনার আহবান

তাদের দাবি ছিল, সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি গোপনে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কাছে চলে যাচ্ছে কিনা এবং চীনা করপোরেশনগুলো সাধারণ নাগরিকরা ব্যবহার করেন এমন সাধারণ প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য তথ্য সরবারহ করছে কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হোক।

চিঠিতে যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে চীনা সংযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রযুক্তি রফতানির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেন দ্রুত রফতানি-নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আইন সংস্কার করছে না সে প্রশ্নও তোলা হয় তাতে।

হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যেই হুয়াওয়ে এবং অন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হুয়াওয়ের কাছে নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তি সরকারি অনুমতি ছাড়া কোন মার্কিন কোম্পানি বিক্রি করতে পারবে না।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই অনুসন্ধান এবং নীতি পর্যালোচনার কাজটি করার দাবি জানান সিনেটর কটন এবং শুমার। ২০১৮ সাল থেকে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে চীন সরকারের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু চীন এবং হুয়াওয়ে বরাবর এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

Loading...