চট্টগ্রামের ১০ জনসহ দেশে মৃত্যু ৩৯ জনের, নতুন আক্রান্ত ৩৯৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ১০জন সহ দেশে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৬২১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ হাজার ৯৪৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার মহাখালী থেকে নিয়মিত অনলাইনে স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এসময় তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮২৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫১ হাজার ৪৯৫ জন।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নতুন করে ১৭ হাজার ৫৮৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৯টি। আগের কিছু নমুনাও পরীক্ষা করা হয়ছে। এ পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ৭ জন নারী। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জন, ঢাকা বিভাগের ১০ জন,  রাজশাহী বিভাগের পাঁচজন, খুলনা বিভাগের পাঁচজন, রংপুর বিভাগের চারজন, ময়মনসিংহ বিভাগের তিনজন, বরিশাল বিভাগের দুইজন রয়েছেন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন ও ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছে।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

Loading...