চমেকের সামনে সুরক্ষা সামগ্রীর অতিরিক্ত দাম, নেপথ্যে দালাল চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলমান করোনা মহামারিতে সুরক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রীর অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানের বিরুদ্ধে। এই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার পেছনে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের হাতে। অসহায় রোগীদের জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। দালালদের হাতে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে দুর-দুরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। এতে উদ্বেগ প্রকাশ  করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল এলাকায় বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ৬০০ টাকার ‘কমেট চেয়ার’ বিক্রি করছে ১২০০ টাকায়, ৪০০ টাকার সার্জিক্যাল মাস্কের বাক্স বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০  টাকায়, ১২০ টাকার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করছে ১৪০-১৫০ টাকায়, ৪০ টাকায় স্যাভলোন সাবান বিক্রি করছে ৬০ টাকা। এছাড়াও  রোগীর স্বজনদের সাহায্য করার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি দালাল চক্র।

এসব দালালরা মেডিকেল  এলাকায় উৎপেতে থাকে, রোগীদের স্বজনরা ওষুধ কিনতে আসলেই তাদের সহায়তার নামে তাদের পছন্দের দোকানে নিয়ে যায়। এইসব  দোকানে রোগীদের স্বজনদের ঠকিয়ে নেওয়া হয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অতিরিক্ত দামে। পরবর্তীতে দোকানদারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী টাকার একটা ভাগ চলে যায় দালালদের পকেটে।

নেছার আহমদ নামে একজন রোগীদের স্বজন বলেন, আমি গ্রামের মানুষ এখানে তেমন কিছু চিনি না। আমি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে বের হতেই আমাকে একটা লোক আমাকে একটা দোকানে নিয়ে যায়। ওষুধ-পত্র কিনে দেয়, তবে দাম বেশি নিয়েছে কিনা আমি বলতে পারছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকান কর্মচারী জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পূর্বগেট সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকানের সাথে এই চক্রের চুক্তি রয়েছে। চমেকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজেশে সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রির সাথেও জড়িত এই চক্র।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন দু’জন অসহায় রোগীদের জন্য দুটি প্লাসটিকের ‘কমেট চেয়ার’ কিনতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের পূর্বগেটে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত মেডিকপস সুপার শপে যান সিএমপির মানবিক পুলিশিং ইউনিটর টিম লিডার মো. শওকত হোসেন। দোকান কর্মচারীরা দুটি চেয়ারের দাম হাঁকে ২ হাজর ৪০০ টাকা। কিন্তু বাইরের দোকানে এই চেয়ারের মূল্য ৬০০ টাকা করে। পুলিশ পরিচয় দিয়েও অতিরিক্ত দাম কমাতে পারেন নি তিনি। এ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে মানবিক পুলিশের টিম লিডার মো. শওকত হোসেন বলেন, আমরা সিএমপির মানবিক পুলিশিং ইউনিট রাস্তায় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রোগীদের চিকিৎসা করিয় সুস্থ করে তুলি। গত ১৯ জুন চমেকে আমরা দু’জন রোগীদের  পায়ের অপারেশন করাই। তাদের শৌচকার্যের সুবিধার্থে আমরা তাদের জন্য দুটি ‘কমেট চেয়ার’ কিনতে যাই। মেডিকেল পূর্বগেট সংলগ্ন মেডিকপস সুপার শপের কর্মচারীর আমার কাছে একটি চেয়ারর দাম হাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে। কিন্তু এর আগে আমি রোগীদের জন্য এরকম চেয়ার কিনেছি ৫০০-৬০০ টাকায়। আমার পরিচয় দেওয়ার পর কর্মচারীরা জানায়, মালিকের কথা অনুযায়ী তারা দাম বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মচারীরা প্রতিটি চেয়ারের কোম্পানী প্রদত্ত মূল্য ছিড়ে ফেলে। এক পর্যায়ে আমি ভিডিও করলে তারা চেয়ার গুলো দোকানের ভেতর নিয়ে যায়। পরে আমি অন্য একটি  দোকান থেকে ১২০০ টাকায় কিনে নিয়ে রোগীদের দিই। কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এরকম নৈরাজ্য দমনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল এলাকায় আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা  করেছি।  চমেক পূর্বগেটের একটি দোকানকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দালাল চক্রের ব্যাপারে  আমরা অবগত ছিলাম না। খোজঁ নিয়ে এসব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে শ্রীঘ্রই অভিযান পরিচালিত করা হবে।

Loading...