চট্টগ্রামে এক মাসে করোনায় ৯৯ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। প্রতিদিন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে হাজার মানুষ।এই মৃত্যু মিছিলে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ছোট আয়তনের এই বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৫০২ জন। আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। 

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকার পরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী পাড়ের এই শহরটিতে ইতোমধ্যে আক্রান্ত ৬ হাজার ৬৯৭ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৪৪ জন। এদের মধ্যে ১১১ জন পুরুষ এবং নারী ৩৩ জন। এই ১৪৪ জনের মধ্যে ১২৪ জনই চল্লিশ বছরের উর্ধ্বে। মৃত ১৪৪ জনের ৯৯ জনই মারা গেছে গত এক মাসে।

সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রামে বয়সভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সের এক জন ছেলেশিশু ও এক জন মেয়েশিশু, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের তিন জন নারী, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের তিন জন পুরুষ ও একজন নারী, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের পাঁচ জন পুরুষ ও ছয় জন নারী, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের ২১ জন পুরুষ ও চার জন নারী, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের ৩১ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী এবং ৬১ বছরের উর্ধ্বে ৫০ জন পুরুষ ও আট জন নারী রয়েছেন।
এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে মোট করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন ১১২ জন। তাদের মধ্যে চার জন চকবাজার, পাঁচ জন খুলশী, চার জন বন্দর, তিন জন ডবলমুরিং, ১৪ জন হালিশহর, দুই জন বাকলিয়া, পাঁচ জন বায়েজিদ, পাঁচ জন আকবরশাহ, এক জন পতেঙ্গা, একজন সুগন্ধা, দুই জন মোহরা, এক জন লালখানবাজার, তিন জন মাদারবাড়ি, এক জন কদমতলী, দুই জন আগ্রাবাদ, নয় জন কোতোয়ালী, দুই জন চান্দগাঁও, চার জন পাঁচলাইশ, নয় জন পাহাড়তলী, এক জন ইপিজেড, চার জন সদরঘাট, দুই জন এনায়েতবাজার, চার জন দামপাড়া, তিন জন ঈদগা, এক জন বউবাজার, এক জন মোগলটুলী, এক জন মোহাম্মদপুর, এক জন লেভেল পার্ক, এক জন রাহাত্তারপুল, এক জন ফিরোজশাহ কলোনী, দুই জন আসকার দিঘীর পাড়, এক জন কর্ণফুলী, এক জন হাজারী লেইন, এক জন কাজীর দেউরি, এক জন নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, এক জন ষোলশহর (২নং গেইট), এক জন বিশ্ব কলোনী এবং একজন কাট্টলী এলাকার বাসিন্দা।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এক জন, পার্কভিউ হাসপাতালে এক জন, মেরিন সিটি কলেজে এক জন, ম্যাক্স হাসপাতালে এক জন ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে এক জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ৩২ জন করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। যাদের মধ্যে লোহাগাড়ার তিন জন, সাতকানিয়ার তিন জন, বাঁশখালীর এক জন, পটিয়ার চার জন, রাঙ্গুনিয়ার চার জন, হাটহাজারীর তিন জন, ফটিকছড়ির দুই জন, সীতাকুণ্ডের সাত জন, আনোয়ারার এক জন, বোয়ালখালীর এক জন, সন্দ্বীপের এক জন, চন্দনাইশের এক জন ও রাউজানের বাসিন্দা রয়েছেন এক জন।

Loading...