৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে না টেলিভিশন ক্লাসে

বর্তমানে সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসে ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৫ শতাংশ আদিবাসী শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিচ্ছে না।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ‘বাংলাদেশে শিক্ষার ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এটি প্রকাশ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, ক্লাসে অংশ না নেওয়াদের মধ্যে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরেই রয়েছে মাদরাসা, গ্রামাঞ্চল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। তারা টেলিভিশনের ক্লাসে কেন অংশ নিচ্ছে না— জরিপের সময় এমন প্রশ্নের জবাবে ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- তাদের কারও বাড়িতে টিভি নেই, আবার কারও বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। আবার কারও কারও বাড়িতে ক্যাবল লাইন নেই। এ সমস্যার কারণে তারা টিভি ক্লাসের বাইরে রয়েছে।

টেলিভিশনের ক্লাসে যে ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ জানিয়েছে, এসব ক্লাস তাদের কাজে লাগছে না।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।

সারাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগের দুটি করে জেলা, অর্থাৎ ১৬টি জেলা বাছাই করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৯৩৮ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই জরিপ করা হয়। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে অধ্যয়ন করছে তিন কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, করোনা দুর্যোগকালে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংসদ টেলিভিশনে ও বেতারে পাঠদান চলছে। পাশাপাশি এসব ভিডিও এটুআই- এর ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউবেও আপলোড করা হচ্ছে।

‘টেলিভিশন ও রেডিওতে পাঠদানের পর এবার চালু করা হচ্ছে বিশেষ হেল্প লাইন নম্বর-৩৩৩৬। চলতি জুনেই পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হবে। যে কোনো মুঠোফোন অপারেটর থেকে এ নম্বরে ডায়াল করলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে তার নিজ শ্রেণির পাঠদান পরামর্শ পাবে। পাঁচ মিনিট পর্যন্ত কলটি হবে টোল ফ্রি।’

Loading...