কক্সবাজার মেডিকেলে আইসিইউ-এইচডিইউ সেবা উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইউনিসেফের সহায়তায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে কক্সবাজার জেলার করোনায় সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ ১০ বেডের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এবং ৮ বেডের এইচডিইউ’র চালু করেছে।

কক্সবাজার মেডিকেলে আইসিইউ-এইচডিইউ সেবা উদ্বোধন

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা আইসিইউ উদ্বোধন করে। ১৮ শয্যার এই আইসিইউ এবং এইচডিইউতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সবচেয়ে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত এই আইসিইউ-তে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ ১০টি আইসিইউ বেড ও ৮টি হাই ডিপেন্ডেন্সি বেড সহ রয়েছে ইউনিসেফ কতৃক প্রদত্ত সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। এরকম স্বাস্থ্যসুবিধা কক্সবাজারে এই প্রথম।

শনিবার (২০ জুন) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাইমুম সারওয়ার কমল বলেন, কক্সবাজারবাসীর স্বপ্ন এই আইসিইউ স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ মানের সহায়তা ও সেবা নিশ্চিত করবে।

কক্সবাজারের মানুষদের আর চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় যেতে হবে না। আমরা ইউএনএইচসিআর-কে ধন্যবাদ জানাই।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এপ্রিল মাসের শুরুতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের নেতৃত্বে এবং জেলা প্রশাসন ও ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় আমরা এই কাজ শুরু করেছিলাম। এর উদ্বোধনে আমরা খুবই আনন্দিত।

যখন কক্সবাজার জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তখন মানবিক কার্যক্রমে জড়িত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ সরকারের সাথে মিলে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, এই আইসিইউ উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হল। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কক্সবাজারের চিকিৎসা সেবা সক্ষমতায় নতুন ধাপ সংযোজিত হল। এই কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

ইউএনএইচসিআর ইতিমধ্যেই কক্সবাজারে দুইটি সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার (সারি আইটিসি) চালু করে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছে। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষ করে এরই মধ্যে ২৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়াও, ইউএনএইচসিআর ও মানবিক কার্যক্রমে জড়িত সংস্থাগুলো সম্মুখ সারির স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রদান করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক করোনা চিকিৎসায় শেষ ভরসা ভেন্টিলেটর ব্যবহারের পূর্ব পর্যায়ে হাই ফ্লো অক্সিজেন ও নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন খুবই কার্যকরি প্রমাণিত। সদর হাসপাতালের ভবনে ১৮টি শয্যায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সংযোগ বর্ধিত করে আরও বেশি পরিমাণ শয্যার জন্য হাই ফ্লো অক্সিজেন ও নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে অধিকতর সংখ্যক রোগীকে কার্যকর সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহীন মোহাম্মদ আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আইসিইউ এবং এইচডিইউ পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়োগকৃতদের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বহন করবে ইউএনএইচসিআর।

কক্সবাজার চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ও সিভিল সোসাইটির সংগঠক আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘কক্সবাজারের মানুষের অনেক দিনের দাবি ছিল জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আইসিইউ ও এইচডিইউ স্থাপন। দেরিতে হলেও তাদের দাবি আজ পূরণ হলো।

Loading...