অসুস্থ শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীনকে দেখতে গেলেন কাউন্সিলর প্রার্থী মহসিন

চট্টগ্রামের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তী ‘অ জ্যাডা ফইরার বাপ’, খ্যাত গানের গীতিকার ও শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন (মহি ভাণ্ডারী)কে হাসপাতালে দেখতে গেলেন চসিক ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবু মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী।

২০ জুন শনিবার রাতে নগরির চকবাজারস্হ মা মনি হাসপাতালে গুণী এ শিল্পীকে দেখতে যান তিনি।

এসময় কাউন্সিলর প্রার্থী আবু মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী শিল্পীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং কৌশলাদী বিনিময় করেন। সেইসাথে শিল্পীর চিকিৎসার জন্য তার সাধ্যমত সহায়তা করার অভিমত ব্যক্ত করেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন চিকিৎসা সহায়তা তহবিল কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নিবার্হী সদস্য মুহাম্মদ মহরম হোসাইন।

প্রসঙ্গত শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন (মহি ভাণ্ডারী) দীর্ঘদিন ধরে নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারস্হ মা মনি হাসপাতালে গত তিন মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সৈয়দ মহিউদ্দিন দেশের সংগীত অঙ্গনের অতি পরিচিত এবং প্রিয় মুখ। চট্টগ্রামে অসংখ্য গুনী শিল্পীর তিনি ওস্তাদ। সঙ্গীতে পান্ডিত্য আছে, এমন গুনীজনরা সৈয়দ মহিউদ্দিনকে গুরু বলেই সম্বোধন করে। জীবনের সকল স্বাদ আহ্লাদকে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন সঙ্গীতের মাঝে। তাঁর গানের সাথে পরিচিত নয়, দেশে এমন সংগীত বোদ্ধা এবং শ্রোতা নেই বললেই চলে। জীবন শুরু করেছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। গীতিকার এবং সুরকার হিসেবে রয়েছে দেশজোড়া খ্যাতি।

তাঁর রচিত এবং সুরারোপিত গান যা মানুষের মুখে মুখে।

উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। ” অ জ্যাডা ফইরার বাপ”, মেজ্জান দিয়ে মেজ্জান দিয়্যে” আসকার ডি’র পুব পারত আঁ র ভাংগা চুরা ঘর, মন হাচারা মাঝি, পিরিত মানে ফুডুর ফাডুর, পাতা বালি, সাম্মান মাঝি সাম্মান বার, গিরাইল্ল্যা কচুর লতি, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জনক তিনি।

সৈয়দ মহিউদ্দিনকে জীবনমুখী আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা বলা হয়। আধুনিক গানের ডামাডোলে যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান আকর্ষণ হারাতে বসেছিল তখনই হাতেগোনা যে কজন গীতিকার-সুরকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আবারও প্রাণ দিয়েছেন সৈয়দ মহিউদ্দিন তাদের মধ্যে একজন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের সঙ্গীত গুরু সৈয়দ মহিউদ্দিন। তাঁর কথা ও সুরে শেফালী-শ্যামের বহু গান আজো দাগ কাটে শ্রোতাদের হৃদয়ে, হয়েছে কালজয়ী। শেফালী-শ্যাম যুগের পর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আজও দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঠাঁই করিয়ে দেয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সৈয়দ মহিউদ্দিনের।

Loading...