চট্টগ্রামে আরো বেশি আইসোলেশন সেন্টার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

চসিকের আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সারাবিশ্বে করোনা মহামারি পরিস্থিতি এখনও বিপদজনক পর্যায়ে রয়েছে।

যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিস্কৃত ও বাজারজাত হবে না করোনা পরিস্থিতির স্থায়ী নিরসন সম্ভব নয়। তারপরও সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনা বিস্তার প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত রোগীদের সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য নতুন অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ২৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট খাতওয়ারী বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে প্রতীয়মান হয় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন এবং স্বাস্থ্যখাতকে আরো বেশি সেবামূলক ও কার্যক্ষম করার জন্য ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন

আজ শনিবার বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডস্থ সিটি কনভেনশন সেন্টারে চসিকের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে নির্মিত ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় করোনাজনিত বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দিন দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশতো বটেই বিশ্বেও করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রমকে নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।

চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন

তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও  সমন্বিত উদ্যোগে সিটি মেয়র যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং আইসোলেশন সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম  বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। প্রায় ১ কোটি জনঅধ্যুষিত এই নগরীতে আজ পর্যন্ত ৪ হাজারেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা স্বীকার করতে দ্বীধা নেই যে, চট্টগ্রামে শনাক্ত রোগীদের জন্য যে পরিমাণ সেবাকেন্দ্র ও আইসোলেশন সেন্টার থাকা প্রয়োজন তা নেই। তাই আরো বেশি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করার প্রয়োজন রয়েছে। এই উপলদ্ধী থেকে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র নগরীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ যে আইসোলেশন সেন্টারটি স্থাপন করেছেন এবং যা আজ উদ্বোধন হলো তার সুফল অবশ্যই নগরবাসী পাবেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, আজ করোনা পরিস্থিতির সবকিছুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে মনিটরিং করছেন। তাই হতাশার কোন কারণ নেই। আমরা এও জানি যে, বাংলাদেশতো বটেই, উন্নত দেশগুলো এত চেষ্টা করেও এই পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না। আজ দূর্বল ও সবল একাকার হয়ে গেছে। তাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রত্যেকে নিজের সুরক্ষা এবং অপরেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাহলেই আমাদের ভয় কেটে যাবে এবং আমরা আবার সামাজিক সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারবো।  প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জননেতা মোহাম্মদ নাসিম এর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং করোনাকালে তাঁর মৃত্যুকে জাতির জন্য একটি ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেন।

চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, আজকেই এই আইসোলেশন সেন্টারটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, স্বাস্থকর্মী ও জনবল নিয়ে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এখানে রোগী ভর্তি করা হবে। প্রথমত এই সেন্টারে মৃদু ও মাঝারী পর্যায়ের রোগাক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর হবে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেনারেল হাসপাতাল সহ যেখানে আইসিইউ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা আছে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

দেশের করোনা পরিস্থিতি ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম উপস্থাপন করে মেয়র বলেন, এ ব্যাপারে চলমান কার্যক্রমকে সন্তোষজনক বলার অবকাশ নেই। একথা সত্য যে, মৃদু ও মাঝারী পর্যায়ের রোগীরা ভালো হয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান, তবে যাদের অবস্থা বিপজ্জনক ও গুরুতর তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অপ্রতুলতা রয়েছে। তাই যতবেশি আইসোলেশন সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো যাবে ততই  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন যে, মানুষের মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিয়ে অবিশ্বাস এবং আস্থার অভাব রয়েছে। আমি জানি এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা লাগাতার পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তবে এটাও ঠিক যে, কোন কোন চিকিৎসক ভীত হয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন এবং কোভিড ও ননকোভিড রোগীদের হাসপাতাল ও চেম্বার থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এরফলে একাধিক হাসপাতালে গিয়ে গিয়ে ধর্না দেবার পরও ভর্তি হতে না পেরে মারা যাচ্ছেন। এই অবস্থাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের দাবী-দাওয়ার বিষয়ে আমি সচেতন। আমি এই বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী। তবে তার আগে আপনাদের উপর যে অর্পিত দায়িত্ব রয়েছে কোন অযুহাতেই তাথেকে বিরত থাকবেন না।

চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন

মেয়র আরও বলেন,  শুধু করোনায় নয়, যে কোনভাবেই মৃত্যু হতে পারে এবং তা অবধারিত। আমরা মারা যেতে পারি কিন্তু মনুষ্যত্ব মারা গেলে মানবজন্ম বৃথা এবং শ্রষ্টার সেরা সৃষ্টির শ্রেষ্টত্ব বলতে আর কিছুই থাকবে না। তাই মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে কোন চিকিৎসক যদি রোগীর জীবন রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালন না করেন তা হলে শ্রষ্টার কাছেই অপরাধী হয়ে থাকতে হবে। এ কারণে কী পেলাম, কী পেলাম না এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে পেশাগত দায়িত্ব ও শপথকে বড় করে দেখতে হবে।

মেয়র কনভেনশন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিনুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিটি কনভেনশন হল আইসোলেশনের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়ার সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী, ১৫ আনসার ব্যাটেলিয়ানের ডাইরেক্টর এ এস এম আজিজ উদ্দীন, উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মো. এরশাদ উল্লাহ, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা জাবেদ, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, ডা. মোহাম্মদ আলী,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, আবু সাদাত মো. তৈয়ব, আনোয়ার জাহান, আইটি অফিসার ইকবাল হাসান, সেলিম রেজা, হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সিকম গ্রুপের এস এম নাসির উদ্দীন আল মামুন, গোলাম কিবরিয়া, ওয়াহিদুল আলম, জোবায়ের আলম, হামিদুল্লাহ চৌধুরী প্রমূখ।

Loading...